বসনিয়ায় তীব্র শীতে বাংলাদেশিদের মানবেতর জীবনযাপন

রাকিব হাসান রাফি
রাকিব হাসান রাফি রাকিব হাসান রাফি , স্লোভেনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইউরোপে তুলনামূলক কিছুটা আগে শীত এসেছে। বুধবার থেকেই বিভিন্ন দেশে তুষারপাত শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বসনিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ভেলিকা ক্লাদুসার শরণার্থী শিবিরে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের মাঝেও নেমে এসেছে বাড়তি দুর্ভোগ।

গত সেপ্টেম্বরে রয়টার্সে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী শহর ভেলিকা ক্লাদুসার জঙ্গলে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দুর্দশার কথা দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে। মূলত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশের সীমানায় প্রবেশের জন্য তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তাদের অনেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ক্রোয়েশিয়া হয়ে স্লোভেনিয়া এবং সেখান থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার পুলিশের তৎপরতার কারণে তাদেরকে বাধ্য হয়ে আবার বসনিয়াতে ফিরে আসতে হয়েছে।

শীতের আগমন ভেলিকা ক্লাদুসার শরণার্থী শিবিরে আটকেপড়া বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমত এ সকল শরনার্থী শিবিরে যেখানে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়াটা অনেকটা দুষ্কর, সেখানে শীত নিবারণের জন্য যথার্থ প্রস্তুতির চিন্তা করা আকাশ কুসুম কল্পনা বৈ অন্য কিছু কী?

স্থানীয় এনজিও ‘নো নেম কিচেনের’ হয়ে কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবী আলবা ডোমিঙ্গুয়েজ পেনা বলকান ইনসাইটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অতীতে ভেলিকার ক্লাদুসার বাংলাদেশিদের শরণার্থী শিবিরে ১০০ জনের মতো বসবাস করতেন। কিন্তু বুধবারের তুষারপাতের পর সেখান থেকে অনেক শরণার্থী অন্যত্র চলে গিয়েছেন।

বতর্মানে তারা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন, তীব্র শীতে তাদের পক্ষে সেখানে টিকে থাকা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পূর্বে তাদের অনেকে একটি পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তারা যেখানে অবস্থান করছেন সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি এ ফ্যাক্টরির তুলনায় অনেক বেশি শোচনীয় বলে তিনি তার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

আলবা ডোমিঙ্গুয়েজ পেনা বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ ক্যাম্পে ধারণ ক্ষমতার চেয়েও অতিরিক্ত শরণার্থী বসবাস করছেন। অন্যদিকে নূরুল হুদা হাবীব নামক বসনিয়া প্রবাসী এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানান, ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বসনিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তাই শরণার্থীদের কেউই বেশি দিন বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাতে থাকতে চান না।

মূলত অবৈধভাবে ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স কিংবা পর্তুগালে প্রবেশের জন্য তারা বসনিয়া আসেন। এদের অনেকে ক্রোয়েশিয়াতে প্রবেশের সময় সেখানকার পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশি শরণার্থীদের অনেকে সিরিয়ান কিংবা পাকিস্তানি অথবা আফগান শরণার্থীদের মাধ্যমে ছিনতাই ও ছুরিকাঘাতের শিকার হন।

তাই বসনিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক জোরদার করে এ রুটে মানবপাচার রোধের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়াও এ সকল বাংলাদেশি শরণার্থীদেরকে মানবিকভাবে সহায়তা করার জন্য তিনি নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এমআরএম/পিআর

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]