মালয়েশিয়ায় বন্ধ হচ্ছে সনির তিন যুগের পুরনো কারখানা

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

বন্ধ হচ্ছে বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক্স পণ্য সামগ্রী উৎপাদনকারী কোম্পানি সনি। কারখানাটি ৩৬ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল মালয়েশিয়ায়। জাপানভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি সনি করপোরেশনের বিশ্বব্যাপী তাদের বাণিজ্য ও কারখানা রয়েছে। দেশটির পেনাং প্রদেশের সনির বৃহৎ একটি কারখানা রয়েছে।

যেখানে ৩ হাজারেরও বেশি কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ কর্মী মালয়েশিয়ান এবং ১৬ শতাংশ বিদেশি কর্মী। দেশটির সংবাদ মাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টু ডে (এফএমটি), এফএমটি এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সনি গ্রুপের মালয়েশিয়াতে একাধিক কারখানা রয়েছে।

এরমধ্যে পেনাং প্রদেশের প্যারায়েতে অবস্থিত কারখানাটি বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটা ধরাবাহিকভাবে ধীরে ধীরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

স্টেট ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডমেস্টিক ট্রেড কমিটির চেয়ারম্যান হালিম হুসেন জানান, পেনাং প্যারায়েতে এই সনির ফ্যাক্টরিটি বন্ধের সাথে সাথে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিক বেকার হয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে এখান থেকে কিছু শ্রমিক মালয়েশিয়ার অন্য এলাকা যেমন বাঙ্গি ও সেলেঙ্গর প্রদেশে অবস্থিত সনি করপোরেশনের কারখানায় নিয়োগ দেয়া হবে।

বাকি শ্রমিকরা দেশটির অন্যান্য সেক্টরে নিয়োগ সমন্বয় করা হবে। এ বিষয়ে সনির কর্তৃপক্ষ এখনও লিখিত নোটিশ দেয়নি। এই পরিকল্পনাটি সনির সারা বিশ্বব্যাপী পুনঃগঠনেরই অংশ। হালিম বলেছিলেন, আগামী বছর পেনাং রাজ্যে ১০ বিলিয়ন রিংগিত বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে ৯ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মীরা সেখানে পুনঃস্থাপিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারিতে মালয়েশিয়ায় একটানা লকডাউন ও বিভিন্ন বিধিনিষেধে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মালয়েশিয়ায়ও। বন্ধ হয়েছে অসংখ্যা কলকারখানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বেকার হয়ে গেছে দেশি-বিদেশি শ্রমিক কর্মচারী।

এমতাবস্থায় সরকার স্বীকার করেছে দেশটির জিডিপি ২২ বছর পর এই প্রথম সর্বনিম্নে পৌছেছে। সরকারি-বেসরকারি খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন রিংগিত সরকার ভর্তুকি দিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে কি কারণে সনি করপোরেশন তাদের কারখানা বন্ধ করতে যাচ্ছে তা স্পষ্ট করেনি। ধারণা করা হচ্ছে করোনা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

এমআরএম/পিআর

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]