কানাডায় ‘ঠিকঠাকভাবে’ চলছে টিকাদান

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি কানাডা
প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ইতোমধ্যেই করোনার টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। জানুয়ারির মধ্যে দেশটিতে এক মিলিয়ন ডোজ টিকা এসে পৌঁছাবে। প্রতিজনকে দুটি করে ৫ লাখ নাগরিককে টিকা দেয়া হবে। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলছে টিকাদান।

বুধবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে ২১ জানুয়ারির মধ্যেই টরন্টো, পিল, ইয়র্ক, উইন্ডসর ও এসেক্স সিটিতে অবস্থিত দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমের সকলেই টিকা পাচ্ছেন বলে অন্টারিও সরকার জানিয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে এসব স্থানের দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমে ফাইজার-বায়োএনটেক ও মর্ডানার করোনা টিকা প্রদান শুরু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, হটস্পট বিবেচনায় নতুন বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে সেখানকার সকল বাসিন্দা, কর্মচারী ও পরিচর্যাশীলদের তা দেয়া হচ্ছে।

তবে সরকারি ভাষ্যে, কতজন তাতে টিকা পাচ্ছেন, সে সংখ্যাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানানো না হলেও প্রদেশের টিকা টাস্ক ফোর্সের প্রধান রিক হিলিয়ার বলেছেন, তাতে ৫৫ হাজার ডোজ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ডোজ টিকা দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমে প্রদানের কথা, যা ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৬টি সেবাশ্রমে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মর্ডানা টিকা দুটির ডোজ ২৮ দিনের ব্যবধানে দেয়া হচ্ছে। আর মর্ডানার ওই টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে পাবলিক হেলথ ইউনিটের সম্প্রসারণ কার্যক্রমটি জড়িত।

উল্লেখ্য, কানাডায় আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় গত ১৪ ডিসেম্বর। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪ শত ৭৩ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ হাজার ২শ ৩৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪শ ৪৭ জন।

অন্যদিকে কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ অন্টারিও, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা, কুইবেকে নাটকীয়ভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ব্যাপকহারে চাপ পড়ছে।

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সরকারি বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেওয়া সত্ত্বেও করোনাভাইরাস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, দেশটির সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুততম সময়ে কিভাবে নাগরিকদের টিকার আওতায় আনা যায় তার ওপর জোর গুরুত্বারোপ করছে।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]