কিস্টোন পাইপলাইন অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্তে বিক্ষুব্ধ কানাডাবাসী

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২:৩১ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২১

জো বাইডেনের নির্বাহী আদেশে যে সিদ্ধান্তগুলো আছে তার মধ্যে কানাডার কিস্টোন পাইপলাইনের অনুমোদন বাতিলের বিষয়টিও রয়েছে। দেশটির বার্তা সংস্থা ‘দ্য কানাডিয়ান প্রেস’ জো বাইডেনের জন্য তৈরি করা নির্বাহী আদেশের তালিকা দেখে এই তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে এ সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই কানাডাবাসীর মধ্যে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কানাডিয়ানরা মনে করছেন শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নয় এই সিদ্ধান্ত দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক তৈরিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, কানাডার আলবার্টার তেলক্ষেত্র থেকে অতিরিক্ত ৮৩০ হাজার ব্যারেল ডিলউটেড বিটুমিন যুক্তরাষ্ট্রের রিফাইনারিগুলোতে পরিবহনের জন্য এই পাইপলাইন তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। ওবামা সরকার ক্ষমতায় এসে এই পাইপ লাইনের অনুমোদন বাতিল করে দেয়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালে এর অনুমোদন দেন।

ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়ে গেছে এবং আলবার্টা ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে পাম্প বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জো বাইডেন তার নির্বাচনী ঘোষণায় এই পাইপলাইনের অনুমোদন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ঠিক কবে নাগাদ এটি বাতিল করবেন সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। আমেরিকায় কানাডার রাষ্ট্রদূত গত একমাস ধরেই মার্কিন প্রশাসন এবং জো বাইডেনের ক্যাম্পেইন টিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

কানাডার প্রত্যাশা ছিল তারা আমেরিকার প্রশাসন এবং নতুন সরকারের নীতিনির্ধারকদের পাইপলাইনের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পারবেন। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। ওবামা সরকার যে প্রকল্পটি বাতিল করে দিয়েছিলেন- এটি ঠিক এক প্রকল্প নয়।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেন হিলম্যান রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, পাইপ লাইনের প্রথম প্রস্তাব থেকে বর্তমান প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধু তাই নয়, কানাডা তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়ায়ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

অটোয়ার ফেডারেল সরকার জো বাইডেনের নতুন সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে। কিন্তু আলবার্টার প্রাদেশিক সরকার আমেরিকার সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে চায় বলে ধারণা দিয়েছে। আলবার্টার প্রিমিয়ার জেসন ক্যানি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পাইপলাইন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

আলবার্টার প্রিমিয়ার জেসন ক্যানি এক বিবৃতিতে পাইপলাইনের অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কানাডার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আমেরিকার নতুন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, পাইপলাইন নির্মাণের অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে কানাডা-আমেরিকা দুই প্রান্তেই মানুষ চাকরি হারাবে। দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে দুর্বল করবে। একই সঙ্গে তেলের জন্য ওপেকভুক্ত দেশের উপর নির্ভরশীলতার মাধ্যমে এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

একই সঙ্গে জেসন ক্যানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি আইনি কোনো প্রতিকারের পথে গেলে আলবার্টা সেটিকে সমর্থন করবে।

এদিকে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এরিন ও টুল আলবার্টার প্রিমিয়ারের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, জো বাইডেনের সিদ্ধান্ত করোনার কারণে স্থবির হয়ে থাকা অর্থনীতি পুনর্জাগরণ উদ্যোগের পরিপন্থী। তিনি অর্থনীতি এবং দুই দেশের কর্মজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পাইপলাইন নিয়ে জো বাইডেনের এক তরফা সিদ্ধান্তের ফলে কানাডার রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। যা জাস্টিন ট্রুডোর সংখ্যালঘু সরকারকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপের মধ্যে ফেলে দেবে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে প্রধান বিরোধী দল সেই ঘোষণা দিয়েই ফেলেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমেরিকার সবচেয়ে নিকটবর্তী দেশ কানাডার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের কথা চিন্তা করে জো বাইডেনের এই ধরনের সিদ্ধান্ত দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দুর্বল করে তুলবে।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]