টিকার বিষয়ে অবৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার না করার আহ্বান

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ২২ জানুয়ারি ২০২১

করোনা টিকার বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তি বা সূত্রের বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার তিন বিশেষজ্ঞ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

টরন্টো সময় বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ‘টিকা নিয়ে কেন সংশয়’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় তারা এমন মন্তব্য করেন। তিন বিশেষজ্ঞ হলেন- ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোরশেদ, ব্রাম্পটন কেনেডি মেডিকেল ক্লিনিকের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডা. আবু ইয়াকুব এবং অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সৈয়দ ফজলে রউফ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর।

আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোভিডের টিকা বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সাফল্য। টিকার ব্যাপারে বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কহীন ও অপ্রমাণিত তথ্য প্রচারে মানুষের আস্থা নষ্ট হবে এবং কোভিড নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।

তারা তিনজনই দাবি করেন, এখন পর্যন্ত অনুমোদিত টিকার প্রত্যেকটিই বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, স্বল্পসময়ে করোনার টিকা তৈরি হলেও কোনো ঝুঁকি বা কার্যকারিতার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি। প্রত্যেকটি টিকারই বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষণার ফলাফল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। প্রতিনিয়তই গবেষক বিজ্ঞানীরা এগুলো পর্যালোচনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজে এই গবেষণার তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে আপত্তি বা দ্বিধা করার মতো কিছু পাইনি।

ড. মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণার কয়েকটি ধাপকে একত্রিত করে টিকা উৎপাদনের সময়কে কমিয়ে এনেছেন।

একটি টিকার জন্য দুশো কোম্পানির একযোগে কাজ করার ঘটনা বিরল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা টিকা নিয়ে কারো কোনো ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। সুযোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ সাপেক্ষে প্রত্যেককেই টিকা নেয়ার আহ্বান জানান মোহাম্মদ মোরশেদ।

টিকা এবং করোনার চিকিৎসার ব্যাপারে বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানীদের পরামর্শকেই গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান চিকিৎসক ডা. আবু ইয়াকুব বলেন, সবার জন্য টিকা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রোগ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, টিকা গবেষণার যে তথ্য আমাদের কাছে আছে, সে হিসেবে প্রথম টিকা নেয়ার পর যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, সেটি থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় টিকা নিলে বেশি কার্যকর হয়। প্রথম টিকার পর তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তিন মাসের বেশি সময় থাকে। কাজেই তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নিলে সেটিও সমানভাবে উপকারী হবে।

অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সৈয়দ ফজলে রউফ বলেন, বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত এই ভাইরাস এবং তার প্রতিকার নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি তারা নতুন নতুন তথ্য জনগণের সামনে নিয়ে আসছেন।

নতুনদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সামাজিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে এমন অনেকেই টিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য দেন যা সাধারণ মানুষের মনে টিকা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। একটি বৈশ্বিক মহামারি থেকে দ্রুত পরিত্রাণের জন্যই টিকার ব্যাপারে বিজ্ঞানসম্মত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরাকে গুরুত্ব দেয়া দরকার।

এসএস/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]