টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে মনুমেন্টের সভা

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশিদের ব্যবস্থাপনায় টরন্টোয় যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হচ্ছে সেখানে কোনো অর্থপাচারকারী বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনো অনুদান নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে মনুমেন্ট ইনক।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কমিউনিটির সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনের নেতারা বলেন, স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা সংগঠনে কোনো বিতর্কিত বা অভিযুক্ত কেউ পরিচালক হিসেবে নেই। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ সংগঠনের দৃষ্টিতে আনলে তারা প্রচলিত আইন অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন।

বাংলাদেশের শহীদ মিনারে আদলে নির্মিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে ভার্চুয়াল এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। টরন্টো সিটি করপোরেশনের সহায়তায় নির্মিত এই ভাষা স্মৃতিসৌধটি বাঙালি কমিউনিটি শহীদ মিনার হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে সংগঠনের চেয়ারপারসন ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত বলেন, কোভিড পরিস্থিতি এবং বৈরি আবহাওয়ার কারণে এই বছর নতুন এই ভাষা সৌধে শহীদ দিবস উদযাপন করা যায়নি। আগামী বছর কমিউনিটির সবাইকে নিয়ে এই ভাষা স্মৃতিসৌধে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত বলেন, ভাষার অধিকার আদায়ে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অন্যান্য কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। এই কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি ম্যাক আজাদের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন- ড. মোজাম্মেল খান, রুমানা চৌধুরী, গোলাম দস্তগীর, মোহসীন ভূঁইয়া, ফরিদা হক, সাদি আহমেদ, আবুল আজাদ, নাহিদ আখতার, আজিজ মোল্লাহ, রেজা সাত্তার, জামাল হোসেন, শেবু চৌধুরী, শান দে প্রমুখ।

শহীদ মিনারকে লুটেরা মুক্ত করার দাবিতে কমিউনিটির আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ম্যাক আজাদ বলেন, বেলায়েত হোসেন মিঠুকে শহীদ মিনারের কমিটি থেকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দেয়ার খবর মোটেও সত্য নয়। পরিচালনা পরিষদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় ১৮ জন নতুন সদস্যের প্রস্তাবিত তালিকায় তার নাম ছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা না দেয়ায় তার সদস্যপদ হয়নি। তিনি সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, এখনো নেই। তার স্ত্রী নাহিদ আকতারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কোথাও কোনো অভিযোগ থাকলে তার ব্যাপারে প্রচলিত বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

সভায় আলোচকরা বিদেশের মাটিতে শহীদ মিনার নির্মাণকাজ শেষ করতে পারায় উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

এমআরআর/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]