এত সুন্দর নোট কখনো দেখিনি

রাকিব হাসান রাফি
রাকিব হাসান রাফি রাকিব হাসান রাফি , স্লোভেনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭:১০ পিএম, ০২ মার্চ ২০২১

ওই সময় পাওয়ার ব্যাংকও কাজ করছিল না। ইনফরমেশন ডেস্কে বসা ভদ্রলোককে বললাম আমার মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়া যাবে? তিনি আমার কাছ থেকে আমার ফোন আর চার্জার নিয়ে প্লাগ ইন করলেন কিন্তু দেখলেন চার্জ হচ্ছে না।

আমাকে তিনি আমার মোবাইল ফোন ফেরত দিলেন, খানিক বাদে আবার গেলাম তাকে অনুরোধ করতে এবং তিনিও একইভাবে আমার কাছ থেকে আমার ফোন আর চার্জার নিয়ে প্লাগ ইন করলেন। এবার চার্জিং লেখা আসলো কিন্তু চার্জ আর হলো না।

আমি আস্তে কেঁটে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর এসে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটা নিলাম এবং দেখলাম আসলে তিনি ঠিক মতো প্লাগ ইন করতে পারেননি; আমি তাকে দেখালাম। তিনি আমাকে ইশারা দিলেন যাতে আমি নিজ থেকে এবার চার্জারটাকে প্লাগ ইন করি।

আমি ঠিকমতো ফোনটাকে চার্জে দিয়ে করে স্টেশনের ভেতরে এক কোণায় বেঞ্চের ওপরে ঘুমিয়ে পড়ি। আমার পাশে আরও দুই জন ঘুমাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আমার ঘুম ভাঙে। ইনফরমেশন ডেস্কে বসা সে ভদ্রলোকের কাছ থেকে আমার ফোনটা নিয়ে পাশে থাকা ওয়াশ রুমে যাই একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য।

jagonews24

ওয়াশরুমের ভেতর প্রবেশ করতে এক রোমানিয়ান লিউ পে করতে হয় কিন্তু আমার কাছে কোনও রোমানিয়ান মুদ্রা ছিল না। ফলে বেশ কিছুক্ষণের জন্য হতবিহ্বল হয়ে পড়লাম। তখন এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা আমাকে ইশারা দিয়ে বললেন ভেতরে যাওয়ার জন্য। আমি ওয়াশ রুমের ভেতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

এরপর বের হওয়ার সময় আমি তার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকলাম ‘Thank you very much!’ কোনও কিছু না বলে আমার দিকে তাকিয়ে তিনি হাসতে থাকলেন। পাশের বাস কাউন্টারের সামনে গিয়ে ডেস্কে থাকা এক মেয়েকে জিজ্ঞেস করি ‘Do you speak English?’ তার পাশে বসা মেয়ে বলে উঠলো ‘How can I help you?’ আমি বললাম যে আমি রোমানিয়াতে বেড়াতে এসেছি এবং আমার কাছে কোনও রোমানিয়ান মুদ্রা নেই; তবে কিছু ইউরো আছে।

তাছাড়া তখন প্রায় সকাল সাড়ে সাতটার কাছাকাছি, সুতরাং আশপাশের কোনও মানি একচেঞ্জও খোলার কথা না। তাকে আমি জিজ্ঞেস করি যদি তিনি আমাকে কিছু রোমানিয়ান লিউ দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। তিনি আমাকে বললেন যে আমি কত ইউরো একচেঞ্জ করতে চাই।

আমি বললাম আমার আপাতত পাঁচ ইউরো একচেঞ্জ করতে পারলেই হবে। তিনি তার পাশে থাকা মেয়েকে যার সাথে আমি প্রথমে কথা বলেছিলাম তাকে এ পাঁচ ইউরো রেখে কিছু রোমানিয়ান লিউ দিতে বললেন। পাঁচ ইউরোর পরিবর্তে তিনি আমাকে ২১ রোমানিয়ান লিউ দিলেন। মার্কেট রেটও এ রকম ছিল।

লিউ এর নোটগুলো দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে ওঠলো; জীবনে এত সুন্দর কাগজের নোট আমি আজ অবধি কখনও দেখিনি। রোমানিয়ার প্রত্যেকটি নোট পলিমারের তৈরি এবং একেকটি মুদ্রামানের নোট একেকটি শিল্পকর্মে আচ্ছাদিত।

আমার ব্যবহার করা সবচেয়ে সুন্দর নোট এ রোমানিয়ান লিউ। তাদের দুই জনকে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমি চলে যাই ওয়াশ রুমের দিকে সে ভদ্রমহিলাকে খুঁজে বের করার জন্য। তার হাতে এক রোমানিয়ান লিউ এর নোট দিতে না দিতেই তিনি বলে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ফরাসি ভাষায় বলে উঠলেন ‘Merci beaucoup! Bonne journée.’ যার ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে ‘Thank you very much! Have a nice day.’

আগের পর্ব পড়ুন

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]