গোঁফযুক্ত মাছ আমদানি করায় চার বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

কৌশলী ইমা কৌশলী ইমা , যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২১

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত গোঁফযুক্ত-আঁশবিহীন নিষিদ্ধ মাছ আমদানি ও বিক্রয়ের অভিযোগে চার বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের বাজার থেকে ৭৬ হাজার পাউন্ড আমদানিকৃত নিষিদ্ধ গোঁফযুক্ত-আঁশবিহীন বোয়াল, পাবদা, মাগুর ও শিং মাছ তুলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের অধিনস্ত ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস)।

এ নির্দেশ অমান্য করে নানা কৌশলে এ জাতীয় মাছ আমদানি ও বিক্রয় করে আসছিলেন কতিপয় ব্যবসায়ী। এফএসআইএস দায়ের করা মামলায় চার বাংলাদেশির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মাছ আমদানিকারক এশিয়া ফুড ডিস্ট্রিবিউশনের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন করা হয়। তারা হলেন, মাহমুদ চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন, শাকিল আহমেদ ও ফিরোজ আহমেদ।

২০১৪ সাল থেকে এশিয়া ফুড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে মাছ আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্রোসারিগুলোতে পাইকারি দরে সরবরাহ করছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্যাটফিস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। এসব মাছ খেলে মানবদেহের ক্ষতি হতে পারে গবেষণায় দেখা গেছে। সে কারণে মাছগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এশিয়া ফুড কর্তৃপক্ষ মাছের চালান আমদানির সময় আইন অমান্য করে অন্য মাছের সঙ্গে ক্যাটফিস তথা মাছের সামনের দিকে লম্বা গোঁফযুক্ত মাছ আমদানি করেন।

নিউইয়র্ক ইউএসডিএ ও এফডিএ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে গ্রোসারি দোকান এবং গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাছ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এশিয়া ফুড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী আসামিদের ২৫ বছর পর্যন্ত কারদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছেন আইনজীবিরা।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের বাজার থেকে ৭৬ হাজার পাউন্ড আমদানি নিষিদ্ধ মাছ তুলে নেয়ার নির্দেশ দেন ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের অধিনস্ত ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস)।

প্রিমিয়াম ফুডসের মালিকানাধীন, শাহজালাল ব্র্যান্ডের প্যাকেটে করে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে আমদানি করা এসব মাছ নিউইয়র্ক এবং আশপাশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্রি করা হত।

প্রিমিয়াম ফুডস মিথ্যা তথ্য দিয়ে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ৭৬ হাজার পাউন্ড ফ্রোজেন মাছ শাহজালাল ব্র্যান্ড নামে, নিউইয়র্ক ও তার আশপাশে সরবরাহ করে আসছিল। গত ২৯ জুলাই নিউইয়র্ক পোস্টে শাহজালাল ব্র্যান্ডের ফ্রোজেন মাছের আমদানি নিষিদ্ধের খবর প্রকাশিত হলে প্রবাসীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

মূলত ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ, যেমন বোয়াল, পাবদা, আইড়, বাতাশী, মাগুরসহ আঁশবিহীন মাছগুলোকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিষিদ্ধ করে তাদের কৃষি দফতরের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ।

বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত বিপুল সংখ্যক মাগুর প্রজাতির মাছ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসআইএস)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত ৪০ হাজার পাউন্ড মাছের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

তবে এর বেশিরভাগই বাংলাদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। এ নিয়ে এফএসআইএস-এর তরফে ওই মাসের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট এক লাখ ৭১ হাজার পাউন্ডেরও বেশি এ প্রজাতির মাছের ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছিল।

এফএসআইএস থেকে বলা হয়েছে, মাগুর বা ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ রফতানির অনুমোদন নেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের। এই দুই দেশ থেকে গত ২৬ মার্চ ২০১৮ থেকে ৮ মার্চ ২০১৯ সালের মধ্যে মাছগুলো আমদানি করা হয়েছে।

পরে খুচরা বিক্রির জন্য এসব মাছের চালান পাঠানো হয় কলোরাডো, কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, নিউ জার্সিসহ নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্রোসারিতে।

তবে এসব নিষিদ্ধ মাছের বিক্রি বন্ধ করতে কিছুদিন ধরে বিভিন্ন গ্রোসারিতে হানা দিচ্ছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিসেস। ফলে যেসব গ্রোসারির মালিকরা প্রিমিয়াম ফুড ইউএসএর কাছ থেকে শাহজালাল ব্র্যান্ডের মাছ কিনেছেন, তারা মাছ বিক্রি করতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ক্যাটফিশ জাতীয় এসব মাছ চাষের সময় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। যদি ফ্রোজেন করা হয় তাহলে এসব মাছ মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে যেহেতু ফ্রোজেন করা ছাড়া মাছ আমদানির কোনো সুযোগ নেই, তাই ২০১৮ সালের শুরুতে এসব মাছ আমদানি নিষিদ্ধ করে ইউএসডিএ।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]