কুয়েতে সবজির চাহিদা মেটাচ্ছেন বাংলাদেশিরা

মোহাম্মদ হেবজু
মোহাম্মদ হেবজু মোহাম্মদ হেবজু , কুয়েত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:৩৯ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২১

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। দেশটিতে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার প্রবাসী মাজারা বা কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত।

কুয়েতে সেন্ট্রাল ‘ভেজিটেবলস অ্যান্ড ফ্রুটস মার্কেট’ সবচেয়ে বড় সবজি ও ফলের পাইকারি বাজার। নান্দনিক সৌন্দর্যের ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া সর্বত্রই। ভেতরে ঢুকলেই মনে পড়বে ঢাকার কারওয়ান বাজারের কথা। বিদেশি সবজি ও ফলমুলে ঠাসা বাজারটি।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের নানা দেশে থেকে আসছে টাটকা ফল ও সবজি। অবাক করার বিষয় হলো ক্রেতারা ভিনদেশি হলেও বিক্রেতাদের প্রায় অধিকাংশ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে অনেকেরই আবার নিজস্ব ব্যবসা।

jagonews24

কিছু বাংলাদেশি শ্রমিক আছে যারা কর্মসংস্থলে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেও নিজের মেধা শ্রম ও ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে শুধু তারায় লাভবান হননি তৈরি করছেন কর্মসংস্থানও।

এ বিষয়ে কথা হলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মো. সালাম মিয়া বলেন, তারা এখানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেছেন। স্থানীয় উৎপাদিত সবজি দিয়ে দেশটির চাহিদার তুলনায় সিকিভাগও পূরণ হয় না। সেক্ষেত্রে দেশটির সবজির যোগান দেয় জর্দান, সৌদি আরব, লেবানন, ভারত পাকিস্তান আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি সবজি ও ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দেশ থেকে আসা ফল ও সবজিগুলোর আন্তর্জাতিক মানের প্যাকিং করা হয় না। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সবজি কুয়েতে পৌঁছাতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেশি লাগে।

jagonews24

‘খামার থেকে আসা টাটকা শাক-সবজি প্যাকেটজাত হয়ে নামছে এখানকার পাইকারি আড়তে। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে দরদাম করে মাল তুলে নিচ্ছেন লরি বা পিক-আপে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে এখানকার কাজ শেষে আবার তা নানা হাত ঘুরে পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তাদের হাতে।’

অবাক করার বিষয়টি হলো, বিশাল এ মার্কেটে ঘুরে ফিরেই চোখে পড়বে বাংলাদেশিদের। বাজারে মিলবে বাংলাদেশে পরিচিত সব শাক-সবজি, ফলও। ভেতরে ঢুকলে তাই মনেই পড়বে দেশের আড়ৎগুলোর কথা।

jagonews24

প্রবাসী আবুল কালাম বলেন, আমার এলাকাই প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কৃষি কাজে নিয়োজিত। বেশ কিছু জটিলতা ছাড়াও নানা কারণে বাংলাদেশি সবজি ও ফলমূল কুয়েতের বাজারে তেমন সুবিধা করতে পারছে না। তাই তারা বাংলাদেশ সরকার ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রফতানি পণ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেট ও ট্রেডমার্ক, ওজন ইত্যাদি প্যাকেটের গায়ে যুক্ত করলেই বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্যেও বিদেশের বাজারে আরো প্রসারিত হবে বলে মনে করেন এ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী।

jagonews24

হাসাবিয়া এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শাক-সবজির জমজমাট হাট বসেছে। এই বাজারে ৯০ ভাগ বিক্রেতা বাঙালি। দেশটির সালমিয়া, রওদা, হাওয়াল্লি, জাহারা, মুরগাবসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রবাসী বাঙালিরাসহ ভারতীয়, পাকিস্তানি, ইরানি, মিশরীয় নাগরিকরা এখানে বাজার করতে এসেছেন।

৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও শীতকালীন সবজি চাষ করে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজি সহজেই চাষ সহজ হলেও গরমের সময় বিশেষ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে হয় বলে জানান ওই এলাকায় কৃষি কাজে নিয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]