করোনায় দেশটাকে আগলে রেখেছেন যারা

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১

ওমর ফারুক হিমেল

মাশরাফি প্রায়ই বলেন শুধু আমরাই না এদেশে নানা সেক্টরে আইকনিক মানুষ আছে, সত্যিই তাই। আমরা জানি, দেশটি দাঁড়িয়ে আছে রেমিট্যান্স প্রবাহ আর গার্মেন্ট শিল্পের উপর। কিন্তু দুর্ভাগ্য গার্মেন্ট শিল্পের কথা যেভাবে ভাবি সে রকম আমরা প্রবাস যোদ্ধাদের কথা ভাবি না।

করোনা অতিমারির মধ্যেও রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরারা। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে গত বছরের পুরো এপ্রিল মাসের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে নতুন রেকর্ড হতে পারে এমনটা মনে করছেন অনেকেই। গণমাধ্যম সূত্রে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রবাসীরা এ মাসের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১১৫ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৯ হাজার ৮০২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

গত বছরের এপ্রিলের পুরো মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সেই হিসেবে ১৫ দিনেই পুরো মাসের চেয়ে ৬ কোটি ৩ লাখ ডলার বা ৫১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসী আয়ের এই গতি অব্যাহত থাকলে চলতি এপ্রিল মাস শেষে রেমিট্যান্স আহরণ ২৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

এই অতিমারিতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি রেমিট‍্যান্স এসেছে। দেশের রিজার্ভ মুদ্রার পরিমাণ বেড়েছে। খেয়ে না খেয়ে পরিবারের জন্য প্রবাসী যোদ্ধারা বেশি করে টাকা পাঠিয়ে, দেশের চাকা সচল রাখছে, পরিবারকে আগলে রাখছে।

আমরা যে গ্রামীণ অর্থনীতির কথা এর পেছনের গল্প প্রবাসী। দেড় কোটি প্রবাসীর হাত ধরে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে বেচে আছে পাঁচকোটি মানুষ। বলা চলে বর্ণিলভাবে মধ্যবিত্তকে অর্থনীতির ধারক বাহক তারা।

অভিবাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রত‍্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রবাসীদের উপর নির্ভরশীল। সব গল্পের বাইরে একটি গল্প ছাপা পড়ে যায়, তা হলো প্রবাসীদের কষ্ট।

প্রবাসীরা বহুভাবে হয়রানির শিকার হয়। প্রবাসীদের আমরা হেয় করি পদে পদে। প্রবাসী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটাই নির্বিকার। গোটা পৃথিবী থেকে বেশি রেমিট‍্যান্স আহরণ করে ভারত।

ভারতকে অনুসরণে নেপাল হাঁটছে। আমরা জনশক্তি প্রকল্পগুলো শক্তিশালী কতটুকু করছি। ভাবনার সময় এসেছে।জোর গলায় বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মজবুত ভিতে দাঁড় করেছে প্রবাসী এই শার্দূলরা।

বিদেশে যাওয়ার জন‍্য সহজ উপায়ে ঋণ দেয়া, যারা করোনাকালে ফিরে এসেছ তাদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। সত্যই রাষ্ট্র এই যাবতকালে প্রবাসীদের জন্য বৃহৎ পরিসরে কিছুই করেনি। আমরা প্রবাসীদের কাছ থেকে দুইহাত দিয়ে নিয়েছি, সে অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য মর্যাদা দেয়নি।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]