ইফতারে দেশীয় আমেজ নেই প্রবাসে

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২৪ পিএম, ০৫ মে ২০২১ | আপডেট: ০৬:০৬ পিএম, ০৫ মে ২০২১

জিসান মাহমুদ, কুয়েত থেকে

সিয়াম সাধনার মাস রমজান। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই মাস অত্যন্ত নেয়ামতের। কেননা, আল্লাহ তাওয়ালা এই মাসের প্রতিদান নিজ হাতে দেবেন। বাংলাদেশিদের মতো প্রবাসে যারা থাকে তারাও শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও রোজা রাখতে চেষ্টা করে। তবে সেটা পরিবার-পরিজন ছাড়া।

কুয়েতে আসার পর তৃতীয়বারের মতো রোজার মাস চলছে। দেশে থাকতে ছোটবেলা থেকে পরিবারের সাথে কাটিয়ে আসছি রহমতের এই মাসটি। সাহরি ও ইফতারের যে একটা আমেজ ছিল সেটি এখানে নেই। সাহরি করার জন্য প্রতিদিন মা ডেকে ডেকে তুলতেন।

ঘুম ছেড়ে উঠতে চাইতাম না, কিন্তু রোজার কথা মনে করে তাড়াহুড়ো করে আবার উঠে যেতাম। মায়ের সেই ডাকাডাকি খুব মিস করি। সাহরির সময় বাড়ির আশপাশের মসজিদগুলোতে মুয়াজ্জিনের আজানের সুর কিংবা ঘুম ভাঙানোর ইসলামী সংগীত এখন কেবল অন্তরে বাজে। মোবাইলে এলার্ম দিয়ে ঘুম থেকে উঠা একমাত্র ভরসা এখন।

রমজানে মায়ের সুস্বাদু রান্নার কথা আর কী বা বলবো! সেটার তুলনা তো কারো সাথে হবে না। প্রবাসে সেই রান্নার স্বাদ কেউ পাই না। সবাই নিজের মত করে কিছু একটা রান্না করে খেয়েই দিন কাটিয়ে দেয়। এরপর সারাদিন রোজা রেখে যখন ইফতারের সময় হয় তখন তো মন আরো ছটপট করতে থাকে।

করোনার কারণে বাংলাদেশের মতো এখানে রেস্তোরাঁগুলোতে সুস্বাদু ইফতারের আয়োজন নেই। নিজের জন্য রান্না করে খাওয়াও অনেক সময় কষ্টসাধ্য। তার ওপর ইফতারের আয়োজন! কেউ কেউ আবার ইফতারের সময় থাকেন কাজে।

অন্যদিকে, বাড়িতে হরেক রকমের ইফতারির আইটেম প্রস্তুত করা হত। সবাই মিলে বসে ইফতারি করার মজাই তো ছিল অন্যরকম। কখনো বা বাড়ির পাশে মসজিদে গিয়ে সবার সাথে ইফতারে শামিল হয়ে যেতাম। ইফতার শেষে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরতাম।

আবার তারারির সময় হলে মসজিদে চলে যেতাম। বর্তমানে করোনায় কুয়েতের মসজিদগুলোতে ইফতারের আয়োজন নেই কিংবা থাকলেও ব্যাপক আয়োজন থাকে না। শুধুমাত্র খেজুর, ফল, ফলের জুস এবং পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আরবিদের খাদ্য তালিকায় ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, মুড়ি এসব নেই।

প্রবাসে পরিবার ছেড়ে বছরের পর বছর আমাদের ইফতার সাহরি কাটিয়ে দিতে হয়। বাংলাদেশে রমজানের প্রত্যেকটি দিন ছিল অনেক আনন্দের। এখানে তার কিছুই নেই। তবে, অনেকে দেশি স্বাদের ঘরোয়া ইফতার সামগ্রীর আয়োজন করে।

পরিবারের সদস্যদের কাছে না পেলেও স্বজন বা দেশি সহকর্মী ভাইদের তারা ইফতারে আমন্ত্রণ করেন। সে সময় ঘরোয়া ইফতারে বিদেশে বসেও চলে আসে দেশি আমেজ। কিছুদিন পর আসছে ঈদুল ফিতর। সেটা তো আমাদের জন্য ভার্চুয়াল ঈদ। ঈদের নামাজ পড়ে মোবাইলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই ঈদ কেটে যাবে।

বড় একাকি এই প্রবাস জীবন। এখানে কেউ কারো না। নিজের আত্মত্যাগে যদি প্রিয় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোঁটানো যায় তাতেই প্রকৃত সুখ। অনুভূতিকে পাথর চাপা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মাঝেই স্বার্থকতা। কষ্টের দিনগুলো কাটিয়ে সোনালী আলোয় উদ্ভাসিত হোক সবার জীবন এটাই প্রত্যাশা।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]