স্কটিশ পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি সদস্য ফয়ছল

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৬ পিএম, ০৯ মে ২০২১ | আপডেট: ০৩:২৭ পিএম, ০৯ মে ২০২১

মতিউর রহমান মুন্না

স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফয়ছল চৌধুরী। স্কটিশ লেবার পার্টি থেকে লোদিয়ান রিজিওনাল লিস্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বদরদিতে। এটাই প্রথম কোনো বাংলাদেশির স্কটিশ পার্লামেন্টে স্থান করে নেয়া।

এবারের নির্বাচনে ১২৯টি আসনের মধ্যে ৬৩ সিট পেয়ে সর্বোচ্চ আসন নিয়েছে এসএনপি। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন আরও এক আসন। সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে কোয়ালিশন করতে হবে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির।

ইকুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইট অ্যাকটিভিস্ট ফয়ছল চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। লেবার পার্টি থেকে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট মিনিস্টার পার্লামেন্ট নির্বাচনে এডিনবরা সাউথওয়েস্ট আসনে লড়াই করেন তিনি।

এছাড়া ২০১৪ সালে স্কটিশ রেফারেন্ডাম চলাকালীন ‘বাংলাদেশি ফর বেটার টুগেদার ক্যাম্পেইন’-এর সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি। ঐতিহাসিক গণভোট এবং অন্যান্য মূলধারায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিকে যুক্ত করতে রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।

foisal-ahmed1

ফয়ছল হোসেন চৌধুরীর জন্ম হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বদরদি গ্রামে। বাবা গোলাম রব্বানী চৌধুরী। তিনি হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীর নাতি। মা-বাবার সঙ্গে তরুণ বয়সে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। প্রথমে ম্যানচেস্টার এবং পরে এডিনবরায় বসবাস শুরু করেন। বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বড় ছেলে হিসেবে সেই তরুণ বয়সেই পরিবারের হাল ধরেন ফয়ছল চৌধুরী। তখন থেকেই যুক্ত রয়েছেন পারিবারিক ক্যাটারিং ব্যবসায়। ব্যবসার পাশাপাশি পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী তরুণ বয়সেই শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম।

মামা ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিইর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার কাছেই কমিউনিটি ওয়ার্কের হাতেখড়ি হয় ফয়ছল চৌধুরীর। দীর্ঘদিন ধরে এডিনবরা অ্যান্ড লোদিয়ান রিজিওনাল ইকুয়ালিটি কাউন্সিলের (এলরেক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। বিভিন্ন সংখ্যালঘু কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য ২০০৪ সালে ব্রিটেনের রানি কর্তৃক ‘এমবিই’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি।

জেডএইচ/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]