বেলজিয়ামে বাংলাদেশিদের ঈদ উদযাপন

ফারুক আহাম্মেদ মোল্লা
ফারুক আহাম্মেদ মোল্লা ফারুক আহাম্মেদ মোল্লা
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ১৩ মে ২০২১

বেলজিয়ামের বিভিন্ন স্থানে কঠোর বিধিনিষেধ মেনে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এবারের ঈদ উদযাপনে পড়েছে করোনার ছায়া। ভাইরাসটি থেকে নিরাপদে থাকতে সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে উদযাপন করা হয়।

প্রবাস জীবনের যান্ত্রিকতা দূরে সরিয়ে ঈদের দিনে বাঙালিরা মিলিত হন একে অপরের সঙ্গে। নামাজ শেষে এক সঙ্গে বসে কফি খাওয়া আর মজাদার গল্পে সময় কেটেছে প্রবাসীদের। বেলজিয়ামে ঈদের দিনেও অনেকে প্রবাসীর কর্ম দিবস থাকে।

তবু তারা খুব ভোরে নতুন পোশাক পরে আগে-ভাগে বাসা থেকে বের হন ঈদের নামাজ পড়তে। যাদের কর্মদিবস থাকে না, তাদের অনেকে মসজিদে নামাজ শেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে বের হন ঘুরতে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সবাই একত্রিত হয়ে মেতে ওঠেন গল্প-আড্ডায়।

আড্ডায় উঠে আসে ঈদ আনন্দের সঙ্গে দেশের পরিবেশ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঘটে যাওয়া নানা মাত্রিক ঘটনাবলী। আড্ডার পাশাপাশি চলে ঈদ উপলক্ষে রান্না করা বিরিয়ানি, পোলাও, কোর্মা, মাংসের চপ, রোস্ট, জর্দা আর গৃহবধূদের নিজ হাতের তৈরি দইসহ নানা স্বাদের খাবার পরিবেশন। থাকে আমসহ বিভিন্ন প্রকার ফলও।

এই মহামিলনের পাশাপাশি প্রবাস থেকে দেশের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে চলে টেলিফোনে কথা আদান প্রধান। এই আলাপে কারো কারো নয়ন ভেসে যায় জলে। অশ্রুসিক্ত নয়নে দেশে একসঙ্গে ঈদ না করতে পারার আক্ষেপ করেন প্রবাসীরা।

ঈদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বেলজিয়াম প্রবাসী ব্রাসেলসের বাসিন্দা মাকসুদুল হাসান মম বলেন, খুব মিস করি শৈশবের সেই আনন্দের ঈদকে। সেই দিন সময় আর কখোনই ফিরে পাবার নয়। ব্যস্ত এই প্রবাস জীবনে পরিবার আর বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে যদিও ঈদ করি, কিন্তু সেই সময়ের ঈদ এখন কেবলই স্মৃতি।

ঈদের দিন বাংলাদেশের আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। শুধু এতটুকুই। সময় বড়ই নিষ্ঠুর, ইচ্ছে করলেই সবকিছু হয় না। তবু প্রবাসের ঈদ পরিবার পরিজন নিয়ে উপভোগ করি আনন্দ করি। বলেন, খালেদ মিনহাজ বাংলাদেশের মতো আনন্দ করে এখানে ঈদ হয় না।

প্রবাসে আমরা বাঙালিরা একে অপরের বাড়িতে যাই, শুভেচ্ছা বিনিময় করি। দেশের সেই সময়ের স্মৃতি খুব মনে পড়ে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আমাদের সময়কার সেই ঈদের আনন্দ বুঝতেই পারবে না। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, চলার পথে রাজধানী ঢাকা শহরের মতো এখানে কোনো যানজট না থাকলেও ইচ্ছে করলেই বাস আর ট্রেনের টিকিট কেটে দেশের বাড়িতে যাওয়া যায় না। দেখা হয় না মমতাময়ী মা-বাবা পরিবার পরিজনদের সঙ্গে। তাইতো তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনজনদের খোঁজ খবর নেই, আর মুঠোফোনে তাদের ডিজিটাল হাসির ছবি দেখেই পালন করতে হয় আমাদের ঈদ উৎসব।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]