কিছু অপ্রিয় সত্য কথা

রহমান মৃধা
রহমান মৃধা রহমান মৃধা
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২১

কী চেয়েছিলাম আর কী পেলাম। হাইরে অভাগা মানুষ জাতি ধরাকে সরা করে ফেললি? আমি নিজেই তো সেই অভাগা মানুষ জাতি, আমার কথাই বলি। সেই ১৯৮৫ সালে নিজ দেশ ছেড়ে পরদেশে পাড়ি দিয়েছিলাম মস্তবড় বৈজ্ঞানিক হব প্রযুক্তির ওপর। কে জানতো সেদিন যে একদিন স্যাটেলাইটের যুগ হবে। আইফোনের মাধ্যমে সব কিছু করা সম্ভব হবে। বেচা-কেনায় ক্যাশ টাকা লাগবে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

সে বহু বছর আগের কথা, বছর খানেক পড়ার পর কম্পিউটার পড়ার শখ চলে গেল। কারণ তখন সুইডেনে কম্পিউটারের বেশ প্রচলন হয়েছে। যাই পড়ি বা করি না কেন কম্পিউটারের বেশ ব্যবহার ছিল তখনই। ভাবনায় এলো এর ব্যবহার যখন এত বেশি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে তাহলে এ পড়ার দরকা নেই, এমনিতেই সব শেখা হয়ে যাবে সময়ের সঙ্গে।

যার ফলে জীবন গড়ার মোড় ঘুরে গেল। তারপর প্রায় চল্লিশটা বছর পার হয়ে গেছে, প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। আমার মতো সবার একটি ভালো ধারণা হয়েছে যেমন বিশ্বের স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে সমস্ত প্রযুক্তি সিস্টেম ১০০ শতাংশ সিকিউরড বা নিরাপদ এবং তা অত্যন্ত শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবার নয়।

কিন্তু সদ্য ঘটে যাওয়া একের পর দুর্ঘটনা ঘটার পর সে ধারণা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে তাসের ঘরের মতো। এখন আমি বলতে পারি ডিজিটাল যুগের সময় শেষ, কারণ এ যুগ গড়ে উঠেছে তাসের ঘরের মতো, রসুলপুরের আসমানিদের সেই ‘ভেন্না পাতার ছানি’ দিয়ে তৈরি ঘরের মতো। একটু নাড়া দিলেই সবকিছু তছনছ হয়ে যেতে পারে।

ছোটবেলায় রাতে চোর এসে অনেকের কিছু অর্থনৈতিক সম্পদ চুরি করতো। এসব চোর পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ করেছে, তাছাড়া লেখাপড়া না জানা অশিক্ষিত লোক ছিল তারা।

বর্তমানে যারা দিনে দুপুরে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি করছে এরা কারা জানেন? এরা বিশ্বের নামি দামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষিত মানুষ। এখন সবাই বলবে আমি হঠাৎ শিক্ষিত মানুষের বদনাম কেন করছি? এটা বদনাম নয়, এটা অপ্রিয় সত্য কথা।

জাপানের হিরোশিমাতে বোম্বিং করে কারা ধ্বংস করেছিল? শিক্ষিত মানুষ। আমরা বহু বছর ধরে শুধু খুন করছি ইহুদি, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টান। কখনও কাউকে বলতে শুনিনি যে আমরা মানুষ হয়ে মানুষ খুন করছি। তাহলে যারা এ পর্যন্ত মারা গেলো এবং যারা মারলো এরা কারা ছিল? মানুষ নামের দানব নিশ্চিত।

যাই হোক না কেন ঘটনা এখন কিছুটা ভিন্ন ধরনের। সে আবার কী? আসুন জেনে নিই কিছু তথ্য। বিশ্ব জনতার ঢেউ এখন সিস্টেমের ওপর। ডিজিটাল সিস্টেম গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে যদি কেউ ডিজিটাল সিস্টেমকে অ্যাটাক করে তবে অতি সহজ উপায়ে গোটা বিশ্বকে অচল করা সম্ভব। এখন এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে দরকার ব্যাকআপ ও সঠিক পরিকল্পনা এবং সেটা হতে হবে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক।

যদি আমি বলি যে সাইবার অ্যাটাক মাদক বা নার্কোটিকের চেয়ে বড় ক্রাইম এবং বিশ্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট, তবে কেউই অবাক হবেন না। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশের আর অস্ত্র তৈরির প্রয়োজন নেই, সাইবার অ্যাটাকই যথেষ্ট।

তারপর আরও বড় সমস্যা হলো, ফোনের নিরাপত্তা নিয়ে। যিনি সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তার মধ্যে আছেন তিনিও এই পেগাসাস স্পাইওয়্যারের আক্রমণ থেকে নিরাপদ নন। এই সফটওয়্যার যে ফোন কল রেকর্ড করতে পারে, এমনকি ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে গোপনে আপনার ভিডিও ধারণ করতে পারে।

আপনি হয়ত হাতের কাছে ফোন রেখে কারও সঙ্গে কথা বলছেন। পেগাসাস আপনার ফোনের মাইক্রোফোনকে জাগিয়ে তুলে আপনার অজান্তেই সেই আলাপ রেকর্ড করে ফেলতে পারে। আপনি কোথায় আছেন, কিংবা কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, সেসব বিষয়ও পেগাসাস চিহ্নিত করার ক্ষমতা রাখে।

আর একবার ফোনে ঢুকে পড়তে পারলে এই স্পাইওয়্যার প্রায় সবধরনের তথ্য বা ফাইলই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।
এখন আসুন সে ভাবনাগুলো কেমন হতে পারে তা নিয়ে কিছু তথ্য বিনিময় করি। জীবনে আমরা বহু অ্যাটাকের কথা শুনেছি যেমন বাঘের অ্যাটাক, হার্ট অ্যাটাক, শত্রুর অ্যাটাক, করোনার অ্যাটাক ইত্যাদি।

এখন প্রযুক্তির যুগে শুরু হয়েছে নতুন আরেক ধরনের অ্যাটাক, তার নাম সাইবার অ্যাটাক। আইটি অ্যাটাক বা সাইবার অ্যাটাক ডিজিটাল পৃথিবীতে এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত। বাংলাদেশে প্রায়ই দেখি অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় তাদের ফেসবুক হ্যাক হয়েছে।

এক দেশ যেমন আরেক দেশকে অ্যাটাক করে ঠিক তেমনি করে কেউ বা কারা একটি বড় কোম্পানির সিস্টেমে অ্যাটাক করে যাতে কোম্পানি সঠিকভাবে সবকিছু ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়। প্রতিযোগিতার যুগে জিততে হলে যে কোনো মূল্যে প্রতিযোগীকে ঠকাতে হবে, সেটা হতে পারে সেই প্রতিযোগীর সিস্টেমে অ্যাটাক করা, যা করেছে গত কয়েক দিন আগে সুইডেনের একটি মুদি চেইন প্রতিষ্ঠানে।

এই মুদি চেইনে রয়েছে আটশো মুদি দোকান, ফার্মাসি এবং সুইডিশ রেলের টিকিট অফিস। সাইবার অ্যাটাকের কারণে কয়েকদিন ধরে পুরো সিস্টেম অচল হয়ে পড়েছে বিধায় কেনাকাটা সব বন্ধ। প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা লস, সেইসঙ্গে অনিশ্চিত জীবন অনেকের জন্য।

উদাহরণস্বরূপ, কোনও বিদেশি শক্তি হঠাৎ যদি আমাদের অ্যাটাক করে তাহলে সশস্ত্র বাহিনীর হস্তক্ষেপ আশা করা উচিত, ঠিক না? এখন ইতোমধ্যে দেশে অপরাধীদের অ্যাটাক চলছে বিশেষ করে যারা মাদক বিক্রি করছে এবং বাংলার মাটিতে গুলি চালাচ্ছে। যেহেতু এটা বাংলার মাটিতে ঘটছে এবং বাংলার সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে।

কিন্তু যদি বাংলাদেশ পুলিশ বা সেনাবাহিনীর জ্ঞান ও বিধিবিধান থাকা সত্ত্বেও নার্কোটিক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে সেখানে কীভাবে তারা সাইবার অ্যাটাকের মোকাবিলা করবে? আমরা যখন আরও বেশি সংখ্যক এই ধরনের অ্যাটাকের মুখোমুখি হবো তখন কী ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের নেয়া দরকার?

আমরা বিশ্বের ইন্টারনেট এবং ডিজিটালাইজেশন নিয়ে কতটা ভাবছি? ভবিষ্যতে আমাদের কী হবে এবং কে আমাদের সুরক্ষা দেবে? ভবিষ্যতে আমাদের কোন ধরনের প্রতিরক্ষা বাহিনী দরকার এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণের দরকার, সময় এসেছে এসব বিষয় নিয়ে ভাবার।

আমি ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন সুইডেনের দোকানে, সীমান্তে, রাজনীতিতে এমনকি সিনেমা হলের টিকিট কাউন্টারে সাইবার অ্যাটাকের কারণে হঠাৎ সিস্টেম কাজ করছে না, সঙ্গে সঙ্গে বিশাল লাইন, অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

সুইডেনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের হার হতাশাজনক। দেশে সাইবার–সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাইবার লিটারেসিও বাড়ানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও সারাদেশ সাইবার অ্যাটাক, নার্কোটিক, মাদক, আগুন লাগানো এবং খুন-খারাবি চলছে সর্বত্রে।

ইদানীং প্রতিদিনই খবরে জানছি কেউ না কেউ খুন হচ্ছে। এখন আর জাস (JAS) বা ডিনামাইট তৈরি করলেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, কারণ মানুষ নিজেই এখন স্বাবলম্বী বোমা।

করোনাকালে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সমান্তরাল হারে বেড়েছে সাইবার ক্রাইম। দেশে ফেসবুক, ইউটিউব, লাইকি, টিকটক, বিগো লাইভের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের ক্রাইম চলেছে। যৌন হয়রানিমূলক একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও (পর্নোগ্রাফি) ব্যবহার করে হয়রানি করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনাও বেড়েছে। এছাড়া ই-কমার্সে পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারণার ঘটনাও বেড়ে চলেছে। বিশ্বে সাইবার ক্রাইম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং বা তথ্য চুরি সব সময় চলছে।

এছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনলাইনে কেনাকাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। কীভাবে আমরা এর বিরুদ্ধে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারব সেটাই এখন ভাবার বিষয়!

সবাই শুধু বলছি শিক্ষা প্রশিক্ষণে রদবদল করতে হবে, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, কখনও কি ভাবছি কী অবস্থা বাংলাদেশ প্রতিরক্ষার?

দেশে যদি সাইবার অ্যাটক হয়? আছে বা পারবে কি প্রতিরক্ষা বাহিনী তার মোকাবিলা করতে? হঠাৎ যদি দেশের সমস্ত ব্যাংক বা হাসপাতালের সিস্টেমে বহিঃশত্রুর মাধ্যমে সাইবার অ্যাটাক আসে আমরা কি প্রস্তুত তার মোকাবিলা করতে? প্রযুক্তির যুগ শেষের পথে, শুরু হয়েছে এর পতনের পালা। আমরা জানি সৃষ্টি যখন হয়েছে ধ্বংস অনিবার্য। কখন, কবে, কোথায় সেটাই জানতে বাকি।

সবার মুখে একটিই প্রশ্ন, কী করলে ভবিষ্যতে এ রকম হ্যাকিং ঠেকানো যাবে। সত্যি কথা বলতে কি, এর কোনো উপায় নেই। ঠেকানো যাবে না। সমস্যা আসবে সমাধান খুঁজতে হবে। পরাজয় মানে ব্যর্থতা। আবার পরাজয় মানে হতে পারে সফলতা, যদি পরাজয়কে জয় করার প্রবণতা মনের মধ্যে গড়ে উঠে।

যদি বলি সেকেন্ড প্লেস ইজ ফর লুজার তাহলে কি ভুল হবে? না। পৃথিবীর যে কোনো প্রতিযোগিতায় একটি মাত্র বিজয়ের স্থান রয়েছে সেটা হলো প্রথম স্থান। বাকি স্থানগুলোর কি তাহলে কোনো মূল্যই নেই? আছে। মনে কি পড়ে সেই কথাটি- আলো বলে, অন্ধকার তুই বড় কালো, অন্ধকার বলে, ভাই, তাই তুমি আলো?-

আলো হলো উজ্জ্বল দীপ্তিময়, অন্ধকার হলো আলোহীন তমসা। আলোর বিপরীত রূপ হলো অন্ধকার। আলোর প্রতি আকর্ষণ যতখানি, অন্ধকারের প্রতি ততখানিই অনাগ্রহ। তবু মেনে নিতে হবে, অন্ধকার আছে বলেই আলো অত দীপ্তিময়, আলোর গৌরব বৃদ্ধি। আলো ও অন্ধকারের মতো মানব সমাজের বিপরীতধর্মী কত কিছুই আছে- ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা, উত্থান-পতন, বলে শেষ করা যায় না। ওই বিপরীত ধর্মিতা সৃষ্টিকে করেছে বৈচিত্র্যময়, সুন্দর ও মধুময়।

দুঃখ নেই শুধু সুখ, সে তো ‘হ্যাপি প্রিন্স’ -এর মতো বিড়ম্বিত জীবন। পতনের হতাশাময় জীবনের মাঝে উত্থানের আনন্দঘন মুহূর্তের তুলনা হয় না। কাজেই আমাদের কাছে অন্ধকারের মতো মন্দ, পাপ, দুঃখ, বেদনা, নিরাশা, পতন ইত্যাদি যতই অনভিপ্রেত হোক, ওগুলোর প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না।

এ কথা তো ঠিক যে, ব্যর্থতা ও অসাফল্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকে সাফল্যের চাবিকাঠি। সে জন্য সৃষ্টিতে বিপরীতধর্মীর সহাবস্থান অপরিহার্য। খোলা আকাশ কি এত ভালো লাগতো যদি কিছু কিছু মেঘ নাহি থাকত। বলি জীবন কি সুন্দর হতো এমন যদি একটুও ব্যথা নাহি থাকত। এসব কথার মধ্যে যে সত্যতা লুকিয়ে রয়েছে তা অস্বীকার করা কঠিন।

তবে একদিকে দরিদ্রতা যেমন সহজেই নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাতে সাহায্য করে অন্যদিকে বিলাসিতা অলসতায় পরিপূর্ণ করে, আর গ্রাস করে জীবনের সুযোগগুলোকে। যারা ভাগ্যের উপর সবকিছু ছেড়ে দিয়ে পরাজয়কে বরণ করে তারা হয় ব্যর্থ আর যারা সব বাঁধা সত্ত্বেও চেষ্টা চালিয়ে যায় তারাই হয় সফল। তার মানে জীবন গোলাপ শয্যা নয়।

টেনিস, ফুটবল, ক্রিকেট, লেখাপড়া, চাকরি যে বিষয়ই দেখি না কেন আত্মবিশ্বাস এবং কঠিন পরিশ্রম সাফলতার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। বারবার ব্যর্থতা সত্ত্বেও চেষ্টা করতে করতে শেষে যে বিজয় জীবনে আসে সে এক মহা আনন্দ। এখন জীবনে বাধা এলো আর ভেঙ্গে পড়লাম তাহলে তো হবে না পরাজয়কে জয় করা?

আমার জীবনে আপ অ্যান্ড ডাউন দেখেছি তবে হতাশ হইনি কখনও। আমি এখনো যেমন বিশ্বাস করি বাংলাদেশ একদিন সকল দেশের মধ্যে সেরা দেশ হবে কোনো না কোনো বিষয়ে। বিশ্বাসে মিলায় ভাগ্য তর্কে বহু দূর, সেক্ষেত্রে ভাবা যেতে পারে এমনটি করে।

Charge your conception of yourself and you will automatically change the world in which you live. Do not try to change others. They are only messengers telling you who you are. Revalue yourself and they will confirm the change. So it’s never too late, you’ve still got time, It’s never too late to change your mind to fight for your rights and be the best useful human being for mankind.

সমস্যা জীবনে আসবে আর তার সমাধান এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সু-শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যখনই সত্যের সঙ্গে মিথ্যার লড়াই হয় তখন সত্য একা হয়ে লড়াই করে। অন্যদিকে অসত্যের দল হয় বিশাল বড়। কারণ অসত্যের পিছনে মুর্খ, লোভি, স্বার্থপর ও বিশ্বাসঘাতকেরা থাকে যার ফলে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন হয়ে পড়ে ঠিকই তবে সত্যের জন্য লড়াই করতে থাকলে একদিন তারই জয় হয়। আমি বিশ্বাস করি পরিবর্তনে, তাই বিশ্বাস করি উন্নতির ধারাকে জাগো বাংলাদেশ জাগো, নদীময় সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবার আগে নতুন করে ভাবো।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]