‘রিক্যালিব্রেশন’ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরেছেন ১১ হাজার বাংলাদেশি

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০২১

মালয়েশিয়ার রিক্যালিব্রেশন প্রক্রিয়ায় ১১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এছাড়া কর্মসূচিতে মোট ৮৮ হাজার ৩৪ প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল দাজায়মি দাউদ।

তিনি জানান, ১ আগস্ট পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজার ৫২৪ জন অভিবাসী এই কর্মসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে যাদের দেশে পাঠানো হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে ৫৬ হাজার ১৫৪ ইন্দোনেশিয়ান, ১৬ হাজার ১৯৪ ভারতীয় এবং ১১ হাজার ৫১০ বাংলাদেশি।

এ প্রক্রিয়ায় অবৈধদের কাছ থেকে ৫২ মিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সোমবার (২ আগস্ট) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) রিক্যালিব্রেশন কাউন্টার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

Malaysia3.jpg

গত ৮ জুলাই কাউন্টার চালু হওয়ার পর থেকে পুনর্নবীকরণ কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কাউন্টারে কোনো শারীরিক দূরত্ব নেই, খাবার এবং পানীয় কেনার জন্য কিয়স্কের অভাব, পাশাপাশি প্রক্রিয়ার বিলম্বের কারণে ফ্লাইট মিস করা, এমন অভিযোগ আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তি এবং এনজিও থেকে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেএলআইয়ে, লেভেল ২, গাড়ি পার্কিংয়ে ২০টি নতুন রিক্যালিব্রেশন কাউন্টার খোলা হয়েছে।

মালয়েশিয়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে জানান অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক।

এছাড়া অপেক্ষমান অভিবাসীদের নামাজের ব্যবস্থা এবং খাবার ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের জন্য একটি দোকান স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেকে যাত্রীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। ফ্লাইট টাইম অনুযায়ী এ সুবিধা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে ইমিগ্রেশন।

Malaysia3.jpg

১ জুলাই নতুন কাউন্টার খোলা হওয়ার পর থেকে কেউ তাদের ফ্লাইট মিস করার খবর পাওয়া যায়নি। তবে যেসব বিদেশি পুনরুদ্ধার কর্মসূচির মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন তাদের উচিৎ ফ্লাইটের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে উপস্থিত থাকতে হবে।

কেএলআইএতে নির্ধারিত কাউন্টার ছাড়াও ১ আগস্ট জোহরের স্টুলাং লাউটে বিশেষ কাউন্টারও খোলা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার কেএলআইএ-২ এ আরও আটটি কাউন্টার খোলা হবে। এছাড়া জোহরের পাসির গুডাং এবং পোর্ট ক্লাংয়ে ১৫ আগস্ট কাউন্টার খোলা হবে বলেও জানিয়েছেন অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক।

অভিবাসন বিভাগ বলছে, এই কর্মসূচিতে যারা অংশ নিয়েছে তারা বেশিরভাগই তিন থেকে পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন।

অননুমোদিত অভিবাসীদের কারণে সরকারের প্রায় ১৩০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বার্ষিক শুল্কের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক খায়রুল দাজায়মি দাউদ।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]