চাকরি বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান ইপিএস কর্মীরা

অসীম বিকাশ বড়ুয়া অসীম বিকাশ বড়ুয়া , দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১

মাত্র ৯০ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) কর্মীরা। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার দাবি তুললেও তারা যেতে না পারায় এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ইপিএস কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দল।

সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আটকেপড়া প্রবাসীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসএম আলী।

তিনি বলেন, আমরা দক্ষিণ কোরিয়াপ্রবাসী কমিটেড-রিঅ্যান্ট্রি কর্মীরা ৯০ দিনের আবশ্যিক ছুটিতে দেশে এসে করোনা মহামারির কারণে প্রায় দুই বছর ধরে আটকে আছি। এখন আমাদের দুর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে।

এ সময় দেশে আটকেপড়া ইপিএস কর্মী এস এম আলী, মৃদুল সোম, মঞ্জুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আওলাদ, রতন দে, জাহিদ খান ও সাইফুল ইসলাম খানসহ মোট ৩৫ জন উপস্থিত ছিলেন।

jagonews24

প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীরা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। সে দেশের আইন অনুযায়ী কোরিয়ায় প্রবেশ করে একই কোম্পানিতে চার বছর ১০ মাস কাজ করার পর কমিটেড কর্মী হিসেবে আগের কোম্পানিতে পুনরায় প্রবেশ করা যায়। এজন্য ৯০ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে রিঅ্যান্ট্রি-কমিটেড হিসেবে ইপিএস কর্মীরা ভিসাপ্রাপ্ত হলেও কোরিয়া পুনরায় যেতে পারছেন না।

তারা জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ২০০৮ সাল থেকে এম্প্লয়মেন্ট পার্মিট সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী সংগ্রহ করে আসছে। বাংলাদেশি কর্মীরা ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’ বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবেশ করেন। ২০০৮ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রায় ২১ হাজার ৯৩৩ জন বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, প্রায় দুই বছর করোনা মহামারির ফলে ২০২০ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশ ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে। আমাদের দেশের করোনার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেয় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার।

jagonews24

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পরও কমিটেড কর্মীরা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেওয়ার পরে ছুটিতে আসা ইপিএসসহ অন্যান্য ভিসাপ্রাপ্ত বাংলাদেশির দক্ষিণ কোরিয়া গিয়ে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ফলে পুনরায় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে বাংলাদেশ।

এতে আটকেপড়া দক্ষিণ কোরিয়াপ্রবাসী ইপিএস কর্মীদের আশার আলো নিভতে শুরু করে। এখন দ্রুত দেশটিতে ফিরতে না পারলে নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। প্রবাসী ইপিএস কর্মীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। অথচ এসব কর্মীই বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য নিয়ে জাগো নিউজকে ইপিএস কর্মী সাইফুল ইসলাম খান জানান, আমরা বিশ্বাস করি এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে এবং তারা অনতিবিলম্বে সব মাধ্যমে যোগাযোগ ত্বরান্বিত করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ আটকেপড়া কোরিয়াগামী কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থলে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে। আমাদের চাকরি বাঁচাতে হলে অবশ্যই দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে যেতে হবে।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]