নাইন/ইলেভেন: মানবিকতার জয় হোক

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রকৌশলী আবদুল্লা রফিক, কানাডা

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্বে আত্মঘাতী কয়েকজন চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সরাসরি টুইন টাওয়ার বিল্ডিংয়ের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়, সারা পৃথিবী হতবাক হয়ে দেখতে থাকে কীভাবে বিমানগুলো উঁচু বিল্ডিংগুলোর ভেতর আঁছড়ে পড়ছে! পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের প্রাণকেন্দ্র ম্যানহাটনে অবস্থিত টুইন টাওয়ারে এ অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ মার্কিন সরকারের ভিত যে নাড়িয়ে দিয়েছিল এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ধারণা করা হয়, আল-কায়েদা নেতা ‘ওসামা বিন লাদেন’ পরিকল্পনাসহ সবকিছুর মূলে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তৎকালীন আফগানিস্তানের ভূখণ্ড আল-কায়েদার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কারণ ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার একই ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিল।

আমি এবং আমার স্ত্রী ২০০১ সালের আগস্ট মাসের ২০ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত নিউইয়র্ক শহর ভিজিট করছিলাম আর আমাদের মেয়ে শারলিনের বয়স তখন মাত্র চার মাস। আমরা খুব উপভোগ করেছি, আমাদের সময়ের একটা বড় অংশ সেই ‘টুইন টাওয়ার’ অতিবাহিত করেছি কারণ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি ট্রেনে এসে টাওয়ারের নিচে অবস্থিত স্টেশনে নামতাম l কিন্তু এখনো গা শিউরে উঠে যদি ঘটনাটি আমরা থাকাকালীন ঘটতো!

সন্ত্রাস সবসময় মানবিক বিপর্যয় টেনে আনে, বহু নির্দোষ, নিরাপরাধ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে শুধুমাত্র ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার জন্য।

জানা যায়, ওই বৈমানিকরা আমেরিকার একটি বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শিক্ষা নিয়ে পাইলট লাইসেন্স গ্রহণ করেছে, এবং গোয়েন্দারা তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলো এভাবে মধ্যেপ্রাচ্যের সৌদিসহ বিভিম্ন দেশ থেকে ২৫-২৬ তরুণ বিমান চালনায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, কিন্তু আমেরিকায় এটা খুবই সাধারণ ঘটনা। সারা পৃথিবী থেকেই মানুষ সেখানে পাড়ি জমায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য, আর তাই প্রশাসন বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব সহকারে দেখেনি।

এর পরের ঘটনা আমরা সবাই জানি- মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী একত্রিত হয়ে তালেবানদের ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করে, উদ্দেশ্য একটাই আল কায়দাসহ পৃথিবীর সব জঙ্গী সংগঠনের মূল উৎপাটন করা। এই বিশ বছরে সেটা কতখানি সফলতার মুখ দেখেছে সেটা আপেক্ষিক বিতর্কের বিষয়, তবে আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনেকখানি সফলতা এসেছে কারণ পুরোপুরি কখনোই সম্ভব নয়।

আত্মহননের মাধ্যমে সন্ত্রাস করে মানবিক বিপর্যয় ঘটানো কোনো ধর্মে আছে বলে আমার জানা নেই, সাধারণ মানুষ সবসময়ই শান্তি চায়, অন্যায়ের প্রতিরোধ করে তবে অনেক সময় নেতৃত্বের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে ভুল মতবাদের পক্ষে চলে যায়!

কাজেই নেতৃত্বকে সবসময় ব্যক্তিগত ইচ্ছেকে দূরে রেখে সাধারণ মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। মানবিকতাকে সবসময় সামনে রাখতে হবে, ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা মানুষকে দিতে হবে, নিজের সুবিধার্তে ধর্মকে ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে তাইলেই পৃথিবী মঙ্গলময় হবে।

জয় হোক মানবিকতার, জয় হোক মানুষের

লেখক: প্রকৌশলী, কলামিস্ট ও ব্যবসায়ী।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]