কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর মালয়েশিয়া সরকার

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫৮ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান বলেছেন, কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় তৎপর রয়েছে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।

তিনি জানান, তারা আট হাজারেরও বেশি নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন এবং অভিযোগগুলো এসেছে মোবাইল অ্যাপ ওয়ার্কিং ফর ওয়ার্কারসের মাধ্যমে। সম্প্রতি কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে মন্ত্রণালয় এই অ্যাপটি চালু করে। বুধবার দেশটির জাতীয় সংসদে তিনি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত মে থেকে এ পর্যন্ত আট হাজার ৫৯৯টি অভিযোগ এসেছে মন্ত্রণালয়ে এবং সাত হাজার ৫০২টি অভিযোগের বিষয়ে তারা এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, করোনাকালে সরকারঘোষিত নিয়ন্ত্রণ আদেশের অধীনে কর্মীরা যাতে অফিসে এসে কাজ করতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য অ্যাপে একটি নতুন সেকশন যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাপটিতে নিয়োগ চুক্তির বিরোধ, বিলম্বে বেতন দেওয়া, ছুটিতে যেতে বাধ্য করা, অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা, বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের প্রতিবেদন না করা, স্ট্যান্ডার্ড আবাসন ও অনুপযুক্ত আচরণের সঙ্গে জড়িত ১৪ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে জানানোর সুযোগ রয়েছে।

jagonews24

সাবেক মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলা সেগারানের এক প্রশ্নের জবাবে সারাবানান বলেন, মালয়েশিয়ায় চাকরির জন্য মাইফিউচারজবস নামক সাইটটিকে জাতীয় পোর্টাল হিসেবে চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়োগকর্তা ও সেন্টার লেবার কোয়ার্টার্সের (সিএলকিউ) জন্য ৩৯টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বিশেষ করে যারা নোংরা আবাসনে ছিলেন তাদের আবাসস্থলের অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের অস্থায়ী কোয়ার্টারে স্থানান্তর করা হয়। এরকম সুবিধা পেয়েছে দুই হাজার ৯৪২ জন কর্মী । ওয়ার্কার্স মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ডস অব হাউজিং অ্যান্ড অ্যামেনিটিস অ্যাক্ট ১৯৯০ (অ্যাক্ট ৪৪৬) এর অধীনে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, কর্মীদের প্রাথমিক আবাসন যদি অনুপযুক্ত হয় তবে তাদের অস্থায়ী আবাসনে স্থানান্তরিত করা হবে। সেই সঙ্গে পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত হোটেলগুলোও সাময়িক আবাসন হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৯৯৩ জন নিয়োগকর্তা ও এক লাখ ২৯ হাজার ৬৬৮ জন কর্মীর কোয়ার্টার পরিদর্শন করা হয়েছে, যা আট লাখ চার হাজার ২০৪ জন অভিবাসী শ্রমিক ও প্রায় ১.২ মিলিয়ন স্থানীয় শ্রমিকের আবাসন স্বার্থ এর সঙ্গে জড়িত। মোট ৯৪০টি তদন্তে বিভিন্ন ভুলের জন্য ৬১৮টির বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৮ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৫০টির বিরুদ্ধে শাস্তি হিসেবে ২.২ মিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে।

jagonews24

তিনি বলেন, ‘তাদের অপরাধ হলো- এসওপি মেনে চলতে না পারা, অনুমতি ছাড়া কাজ করা, এন্ট্রি ও এক্সিট রুট দিতে ব্যর্থ হওয়া ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলা।’ আইনের অধীনে গৃহকর্মীদের বাদ দিয়ে নিয়োগকারী সব বিদেশি কর্মীদের স্ট্যান্ডার্ড বাসস্থান প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের আবাসন ও সুবিধাগুলোর ন্যূনতম মান ২০২১ গেজেট করা হয়েছে, যা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়া নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

এআরএ/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]