প্রবল ঝড়ে খেজুর গাছ আঁকড়ে প্রাণে বাঁচেন বাংলাদেশি মন্টু

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০২১

মীর মাহফুজ আনাম, ঘূর্ণিঝড় এলাকা পরিদর্শন শেষে

ত্রাণের প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে মন্টু। বাবা-মায়ের সঙ্গে ওমানে তার বেড়ে ওঠা। মন্টুর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন। বাগানের ভেতরে ছোট্ট একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো সে। রাত যখন গভীর তখন প্রচণ্ড বাতাস আর অনবরত বৃষ্টি শুরু হয়। উপড়ে যায় তাদের থাকার ঘরটি। চারদিকে তখন পানি আর পানি।

ঘর থেকে বের হয়ে দীর্ঘক্ষণ একটি খেজুর গাছ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বাঁচে ছেলেটি। তার বাবাও ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের অন্যদের বাঁচাতে। ঝড়-তুফানে বাবার সব হারিয়ে গেছে। এখন কোনো রকমে বেঁচে আছে তারা। কেউ সহযোগিতাও করতে আসেনি তাদের। শুনেছেন বাংলাদেশিদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। তাই এখানে ছুটে এসেছে সে।

ঝড়-তুফানের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার এমনই কাহিনি শোনাচ্ছিলেন বারো বছর বয়সী মন্টু। মন্টুর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁদপুরে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ওমানে থাকতো সে। গত রোববার ঘূর্ণিঝড় শাহিনের আঘাতে বাড়িঘর হারিয়ে পথে বসেছে তার পরিবার।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে ওমানের ওই সব এলাকায় গিয়ে এমনি চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। বিদিয়া বাজারের পেট্রলপাম্প এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছে ওমানস্থ ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব’। ত্রাণের গাড়ি দেখে মুহূর্তে মানুষের জটলা। ত্রাণ সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়ায় মন্টুও।

jagonews24

শুধু ছোট্ট মন্টুই নয়, আরও হাজার হাজার প্রবাসী নিজের ঘর থেকে কোনো রকমে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে দিগ্বিদিক ছুটেছেন। এ যাত্রায় অনেকে পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। এখনও অনেক প্রবাসীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মিডিয়ায় খবর এসেছে এখন পর্যন্ত তিন বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোশ্যাল ক্লাবের হয়ে ত্রাণ দিতে আসা বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা সৈয়দ মনজুর আলম বলেন, এখানে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। প্রবাসীরা সামান্য ত্রাণের আশায় অসহায়ের মতো চেয়ে আছেন। বহু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সব হারিয়ে এখন পথের ভিখারি। মানুষ ত্রাণ সহযোগিতা পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। ওমানের বিভিন্ন সংস্থা তার ব্যক্তি উদ্যোগের ত্রাণগুলো তাদের দেশের নাগরিকদের বণ্টন করছে বলে জানান তিনি।

jagonews24

বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের সাধারণ সম্পাদক এম এন আমিন বলেন, এখানে এসে যা দেখতে পাচ্ছি তা খুবই ভয়াবহ। জানি না এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবে এখানকার মানুষ। আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি ওমানে প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দূতাবাসকে অনুরোধ জানাবো, তারা যেন আরও বেশি করে খাদ্যসামগ্রীসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ান।

jagonews24

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরের দিন ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি টিম পরিদর্শনে আসেন। তারা অল্প সংখ্যক মানুষকে ত্রাণসামগ্রী দেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

গত রোববার (৩ অক্টোবর) ঘণ্টায় বাতাসের সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগ নিয়ে ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় শাহীন। এর সঙ্গে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতে দেশটির ওই অঞ্চলের বিশাল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পাশাপাশি এটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিসতান-বালুচিস্তানের উপকূলে আঘাত করে। এতে এখন পর্যন্ত ওমান ও ইরানের মোট ১৩ জন মারা যাওয়ার খবর দিয়েছে বিবিসি।

এআরএ/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]