ঘূর্ণিঝড় শাহীন: অপ্রতুল ত্রাণে ধুঁকছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০২১

মীর মাহফুজ আনাম, ঘূর্ণিঝড় এলাকা পরিদর্শন শেষে

‘ঘূর্ণিঝড় এলাকায় এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। বহু প্রবাসী ব্যবসায়ী সব হারিয়ে এখন পথে বসেছেন। মানুষ ত্রাণ সহযোগিতা পেতে মুখিয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণগুলো আমাদের দেশের নাগরিকদের বণ্টন করা হচ্ছে। প্রবাসীরা অসহায় হয়ে চেয়ে আছেন।’

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন সোশ্যাল ক্লাবের হয়ে ত্রাণ দিতে আসা বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা সৈয়দ মনজুর আলম।

তিনি বলেন, বিদিয়া বাজারের পেট্রল পাম্প এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছে ওমানস্থ ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব’। ত্রাণের গাড়ি দেখে মুহূর্তে মানুষের জটলা বেঁধে যায়।

সৈয়দ মনজুর আলম বলেন, ওমান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার মাস্কাট-সোহার সড়কটির দু’পাশ চেনা মানুষের কাছেও অচেনা মনে হবে। বিশেষ করে আল সুইক থেকে শুরু করে কাবুরা পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটারের কাছাকাছি সড়কের দুইধারে দোকানপাট ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

সড়কে কোথাও বিশাল বিশাল গর্ত। আবার কোথাও রাস্তাজুড়ে মাটির স্তূপ। এতো গেলো প্রধান সড়কের দৃশ্য। প্রধান সড়ক থেকে গ্রামীণ জনপদে ঢুকতেই চোখে পড়বে ভূতুড়ে দৃশ্য। বড় বড় খেজুর বাগান মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। বিশাল মুরগির খামার এখন খোলা মাঠ। বিদ্যুৎ নেই এক সপ্তাহ ধরে- বলেন এ কমিউনিটি নেতা।

এমন দৃশ্য ওমানের আল সুইক, বিদিয়া, কাবুরা নামক স্থানের। গত এক সপ্তাহ আগে ঘূর্ণিঝড় ‘শাহীন’ লন্ডভন্ড করে দিয়েছে এ অঞ্চল।

হাজার হাজার প্রবাসী নিজের ঘর থেকে কোনো রকমে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে দিগ্বিদিক ছুটেছেন। এ যাত্রায় অনেকে পানির স্রোতে তলিয়ে গেছেন। এখনো বহু প্রবাসীর সন্ধান মেলেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার স্বজনরা সন্ধান চেয়ে পোস্ট করছেন।

বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের সাধারণ সম্পাদক এম. এন আমিন বলেন, এখানে এসে যা দেখতে পাচ্ছি তা খুবই ভয়াবহ। জানি না এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবে। আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ওমানে প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।

jagonews24

একইসঙ্গে দূতাবাসকে অনুরোধ জানাবো, তারা যেন আরও বেশি করে খাদ্যসামগ্রীসহ নানাভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ান।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরদিন ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি টিম পরিদর্শনে আসে। তারা অল্প সংখ্যক মানুষকে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছিলেন।

গত রোববার (৩ অক্টোবর) ঘণ্টায় বাতাসের সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগে ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় শাহীন। এর সঙ্গে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতে দেশটির ওই অঞ্চলের বিশাল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পাশাপাশি এটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিসতান-বালুচিস্তানের উপকূলেও আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ওমান ও ইরানের মোট ১৩ জন মারা যাওয়ার খবর দিয়েছে বিবিসি।

এমআরএম/ইউএইচ/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]