সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে ১৫ দেশের ২০০ প্রবাসীর স্বাক্ষর

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২১

আশফাক স্বপন, যুক্তরাষ্ট্র

গান, কবিতা ও কথায় প্রায় আড়াই ঘণ্টার অনলাইন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠানে ১৫টি দেশে বসবাসকারী দুই শ’-এর বেশি প্রবাসী স্বাক্ষর করে প্রতিবাদ করেছেন।

‘উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য পরিষদে’র উদ্যোগে আয়োজিত ২৪ অক্টোবরের এই সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী প্রবাসী সাহিত্য মঞ্চের প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যোগ দেন যুক্তরাজ্য থেকে সাহিত্য গবেষক গোলাম মুরশিদ, অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, কবি শামীম আজাদ, সংস্কৃতিকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ, কানাডা থেকে কবি দিলারা হাফিজ, অস্ট্রেলিয়া থেকে গবেষক অধ্যাপিকা নিরুপমা রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবেশকর্মী কামরুল আহসান খান, ফ্রান্স থেকে সংস্কৃতিকর্মী রবিশংকর মৈত্রী ও আমীরুল আরহাম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতিকর্মী তাজুল ইমাম, অধ্যাপক মোস্তফা সারওয়ার, অধ্যাপক হায়দার খান, জ্যোতির্বিদ ও লেখক দীপেন ভট্টাচার্য।

অনলাইন অনুষ্ঠানে মহীতোষ তালুকদার তাপস যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্য থেকে যোগ দেন। তিনি হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সলিল চৌধুরীর গান পরিবেশন করেন। বক্তারা মতপ্রকাশের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। শিকাগো থেকে যোগ দেন শৈবাল তালুকদার। কবিতা পাঠের সময় তার কণ্ঠ অশ্রুরুদ্ধ হয়ে যায়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখিকা পূরবী বসু সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে তার দুটি কবিতা পাঠ করা হয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবাদে সংগঠনের সদস্যরা অভিবাসী বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি ঘোষণার সপক্ষে বিশ্বব্যাপী স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। মাত্র কয়েকদিনে ই-মেইল আর ফেসবুকের মাধ্যমে পাঁচটি মহাদেশের ১৫টি দেশ থেকে ২১০ জন অভিবাসী এই ঘোষণার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেন।

বেশির ভাগ স্বাক্ষরকারী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুকরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন। তার সঙ্গে যুক্ত হন ইরান, জাপান, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, লিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, সুইডেনের প্রবাসী।

ঘোষণায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় মন্দিরে আক্রমণ, বিগ্রহ ধ্বংস ও সার্বিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে আমরা অভিবাসী সাহিত্য সমাজ ও তার শুভানুধ্যায়ীরা তীব্র ধিক্কার ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।’

ঘোষণায় আরও বলা হয়, ‘ফেসবুকে মিথ্যা উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হানাহানির সৃষ্টি একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর হীন উদ্দেশ্যপ্রসূত কৌশল। যারা এই উসকানির সঙ্গে জড়িত, এমনকি যারা এই উসকানির ফলে হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে, তারা আসলে ধর্মের ধ্বজাধারী দুর্বৃত্ত। দুঃখের বিষয় গত কয়েক দশক ধরে এই ধরনের শক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় পাচ্ছে। রামু, নাসিরনগরসহ বহু স্থানে এই ধরনের সহিংসতা বার বার সংঘটিত হচ্ছে। এর কোনোটিতেই সঠিক আইনের প্রয়োগ দেখা যায়নি।’

বক্তারা বলেন, আমাদের দাবি সরকার, সুশীল সমাজ এবং ধর্মবিশ্বাসী সকল সৎ ও মানবতাবাদী মানুষ এই বিষয়ে সোচ্চার হোন, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ঘোষণায় এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় অতীতের মতো এবারও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।

এর আগেও পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রা, উদীচীর অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা আক্রমণ করেছে। সেই আক্রমণ যেভাবে জাতি সংঘবদ্ধভাবে প্রতিহত করেছে, আমাদের সচেতন প্রচেষ্টায় আমরা নিশ্চিত যে এবারও আমরা একইভাবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই কথাটা আবার প্রতিষ্ঠিত করব যে, বাংলাদেশ ধর্ম মত নির্বিশেষে সবার দেশ এবং এখানে সবার পূর্ণ সম্মান ও নিরাপত্তায় বসবাস করা ও আপন আপন ধর্মপালনের অধিকার অবিসংবাদিত।

অভিবাসী বাঙালি লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে মতবিনিময় ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য পরিষদ গঠিত হয়। এই সংগঠনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে প্রতি বছর বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সমাবেশ অন্যতম। প্রতি সমাবেশের সঙ্গে ‘হৃদবাংলা’ শীর্ষক স্মারক সাহিত্য সঙ্কলন প্রকাশিত হয়। প্রথম সমাবেশ ২০২৯ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়, কিন্ত অতিমারির কারণে পরবর্তী দুটি সম্মেলন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সমাবেশ আগামী বছর লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে বলে উদ্যোক্তারা ঘোষণা দেন।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]