লন্ডনে ‘বিজয়ফুল’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

ফিরোজ আহম্মেদ বিপুল
ফিরোজ আহম্মেদ বিপুল ফিরোজ আহম্মেদ বিপুল লন্ডন
প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই বেগবান করার অঙ্গীকার নেওয়ার মধ্য দিয়ে লন্ডনে ৩০ নভেম্বর ‘বিজয়ফুল’ কর্মসূচি ২০২১ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারের পাদদেশে উৎসাহ উদ্দীপনায় সন্ধ্যা ছয়টা এক মিনিটে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ দেশাত্ববোধক গান পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।

বিজয়ফুল কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা কবি শামীম আজাদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং অনলাইনে যুক্ত হওয়া সবাইকে স্বাগত জানিয়ে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এরপর একে অপরকে বিজয়ফুল পরিয়ে দেন এবং মুক্তিযাদ্ধা ও বিজয়ফুলের অন্যতম উপদেষ্টা লোকমান হোসেন অতিথিসহ মিনারে বিজয়ফুলের মাল্য অর্পণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসাইন, টাওয়ার হেমলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলার আহবাব হোসেন, কাউন্সিলার সাবিনা আকতার, সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা, সাংবাদিক বুলবুল হাসান, বিজয়ফুল কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিভাগের প্রধান সিরাজুল বাসিত চৌধুরী প্রমুখ।

ঢাকা থেকে জুমের মাধমে যুক্ত হন বিজয়ফুলের আন্তর্জাতিক দূত ড.সেলিম জাহান এবং বিজয়ফুলের বাংলাদেশের দূত গওহর নঈম ওয়ারা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিজয়ফুল কর্মসূচির সমন্বয়ক কবি মিলটন রহমান এবং সহ-সমন্বয়ক অপু ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজয়ফুল সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান স্মৃতি আজাদ, উজ্জীবক কবি ফারাহ্ নাজ, সাংবাদিক তবারকুল ইসলাম পারভেজ, কণ্ঠশিল্পী সাদিয়া আফরোজ চৌধুরী, ফিরোজ আহমদ বিপুল, রুবি হক, ওয়াহিদ জামান উপল, সিনথিয়া আশরাফ, শামিমা মিতা, মোহনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি, নিপা, আনিকা হক মল্লিক, ফয়সল, ফজলুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হয়। সম্প্রচারে দায়িত্ব পালন করেন সহ-সমন্বয়ক আপু ইসলাম ও উজ্জীবক ফিরোজ আহমদ বিপুল। উদ্বোধনকালে মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন বলেন, বিজয়ফুল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং চেতনাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা থেকে জুমের মাধমে যুক্ত হয়ে বিজয়ফুলের আন্তর্জাতিক দূত ড.সেলিম জাহান বলেন, বিজয়ফুল কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জনানো, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদৰ্শন এবং সেই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চিন্তা-চেতনা, বাংলাদেশের যে গৌরবময় ঐতিহ্য সেটাকে তুলে ধরা। আমি মনে করি যে, বর্তমান সময়ে সেই সব কর্মসূচি এবং লক্ষ্যসমূহ ঠিকই আছে।

jagonews24

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর আহবাব হোসেন বলেন, বিজয়ফুলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বিজয় দিবসের তাৎপর্য শেখানোর পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

কাউন্সিলর সাবিনা আকতার বলেন, বিজয়ফুল যে কাজটি করছে তা সময়োপযোগী এবং ঐতিহাসিক। মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশকে নব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এর বিকল্প নেই।

সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, বিজয়ফুলকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার সময় হয়েছে। তিনি বিজয়ফুলকে চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হিশেবে রূপান্তর করে কর্মসূচি আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক বুলবুল হাসান বলেন, বিজয়ফুলের সঙ্গে পপি ফুলের তুলনা করার প্রয়োজন নেই। বিজয়ফুলের নিজস্ব একটি চেতরা রয়েছে। তা নিয়েই বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করবে।

শিক্ষক সিরাজুল বাসিত চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বিজয়ফুল কাজ করছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া উপস্থিত সবাই আগামী প্রজন্মের জন্য এ বিজয়ফুল কর্মসূচিকে একটি লাগসই প্রযুক্তি ও আন্দোলন বলে এটি ভবিষ্যতে অনেক ব্যাপ্তি লাভ করবে বলে মনে করেন।

বিজয়ফুল কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

প্রবাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্য বিজয়ফুল কর্মসূচি গত ১৪ বছর যাবৎ পালিত হয়ে আসছে। বহির্বিশ্বে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে বিজয় ফুল হয়ে ওঠেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক।

বাংলাদেশে বিজয়ফুল: এদিকে বাংলাদেশেও বিজয়ফুল কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিজয়ফুল কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদা নাসরীন প্রতিষ্ঠিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ‘আলোক স্কুল’ বিজয়ফুল তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্কুলের ছয় শতাধিক ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন দেশাত্ববোধক গান কবিতা ও গল্পে উৎসবমুখর সময় পার করছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ফুল কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]