এসব সাইনবোর্ড কীসের ইঙ্গিত বহন করে?

রহমান মৃধা
রহমান মৃধা রহমান মৃধা
প্রকাশিত: ০২:২৩ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

আমার এক ব্রিটিশ বন্ধু এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ভ্রমণে রয়েছে। বন্ধু বাংলা পড়তে পারে। তবে লিখতে পারে না। লেখায় ব্যবহৃত ছবিটিসহ ইংরেজিতে মন্তব্য করেছে- ‘সরকারি অফিসে এমন পোস্টার দেখলে লজ্জা লাগে। এটা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে বাঙালি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত জাতি। আপনি কি ইংল্যান্ড বা সুইডেনে এ রকম পোস্টার কল্পনা করতে পারেন?’

বন্ধু জানে আমি লিখি, সে জানে আমি বিষয়টি দেখে আর কিছু না হোক রিফ্লেক্ট করবো। ফেসবুকের পেজে ছবিটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসেঞ্জারে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু মতামত এবং মন্তব্য দেখলাম।

লিখেছে, ‘বাংলাদেশের তুলনায় ইংল্যান্ড বা সুইডেনের প্রসঙ্গ ভিন্ন। প্রতিটি দেশের নিজস্ব উন্নয়ন স্তর রয়েছে এবং সেই উন্নয়ন স্তরের সঙ্গে সামাজিক বৈশিষ্ট্য বিরাজমান। আপনার বন্ধুর উচিৎ আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এবং বাস্তবে এর পরিণতি বিষয়ে অধ্যয়ন করা।’

মন্তব্যটি দেখে মনে হলো একদল শিক্ষিত সমাজ বিষয়টির বিশ্লেষণ যদি এভাবে দিতে পারে সেখানে সাধারণ মানুষের কাছে এটা কোনো ঘটনাই নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষ এসব ‘সাইনবোর্ড’ দেখে স্বস্তি পায়। তারা ভাবে, যাক ভালো যে এখানে অন্তত দুর্নীতি হয় না ইত্যাদি।

আমি বিষয়টি নিয়ে আর কিছু না লিখি, বরং কয়েকটি বিষয় নিয়ে কিছু রিফ্লেক্ট (চিন্তাভাবনা) করি। ইদানীং দেশে প্রায়ই দেখি একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করছে, ভাই আপনি নামাজ পড়েন? একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে এমনটি প্রশ্ন করতেই পারে এবং খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা একজন চাকরিজীবিকে কি প্রশ্ন করতে পারি, ভাই, আপনি কি দুর্নীতি করেন?

এখানে দুইটি বিষয়ের ওপর দুই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। মুসলমান হলেই যে সবাই নামাজ পড়ে তা নয়, আবার চাকরি করলেই যে সবাই দুর্নীতি করে সেটাও সঠিক নয়। এ ধরনের সহজ জিনিস বুঝতে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এবং বাস্তবে এর পরিণতি বিষয়ে অধ্যয়ন করতে হবে, এটা এর আগে কখনো শুনিনি!

আমি মনে করি রাষ্ট্রের উচিত হবে অনতিবিলম্বে এ ধরনের সমস্ত ‘সাইনবোর্ড’ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া। এ ধরনের ‘সাইনবোর্ড’ জাতি তথা দেশের জন্য অপমানজনক বার্তা। এতে স্পষ্ট যে, দেশে শুধু দুর্নীতি হয় তা নয়, দুর্নীতি সর্বজন স্বীকৃত।

‘সাইনবোর্ড’ না থাকলেও হয়তো দুর্নীতি হবে, তবে জনসমাজে এ ধরনের ‘দুর্নীতি’ অন্তত একটি নীতিতে পরিণত হবে না!

একটি গল্প মনে পড়ে গেল। ব্যাংকে ডাকাত ঢুকে সব টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ দুইজন গ্রাহক ডাকাতদের দেখে ফেলে। গ্রাহক দুইজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তারা ব্যাংকে এসেছিল মূলত টাকা তুলতে। তো ডাকাতদের মধ্যে একজন হঠাৎ বন্দুক সামনের দিকে ধরে জিজ্ঞেস করলো, এই কে দেখেছিস আমাদের? সত্যি কথা বল, নইলে গুলি করে দুজনকেই মেরে ফেলব? স্বামী তাড়াহুড়ো করে উত্তরে বললেন; আমি না, আমার স্ত্রী দেখেছে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।[email protected]

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]