‘ভিসি ফরিদ দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন’

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৭ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২২

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। তার কোনোভাবেই আর এ দায়িত্বে থাকা উচিত নয়।

বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সংগঠন উপাচার্য পরিষদের সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিমউদ্দিন আহমেদ এ অভিমত দিয়ে আরও বলেন, তিনি (ফরিদ উদ্দিন) স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়তে রাজি না হলে সরকারের উচিত হবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। কেননা, একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীল পরিবেশই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়ার কথা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক এজিএস নাসির উদ দুজা ড. জসিমউদ্দিনের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। দুজনেই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে গ্রেফতার সাবেক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও সব ধরনের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

শাবিপ্রবির শাহ পরান হল ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস এবং কানাডায় বসবাসরত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন সাস্টিয়ান কানাডার সাধারণ সম্পাদক নিতু দত্তও এতে বক্তব্য রাখেন।

উপাচার্য পরিষদের সাবেক সভাপতি ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় সরকার কোনো পক্ষ নয়। এখানে সরকারের পরাজয়ের কোনো ব্যাপর নেই। বরং রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে স্থিতিশীলতার অনুকূলে পদক্ষেপ নেওয়াটাই সরকারের কাজ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই নানা অভিযোগে বেশ কয়েকজন উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে। কেউ কেউ দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন, কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে এখনো মামলা চলছে। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতার শর্তকে প্রাধান্য দিয়েই শাবিপ্রবির বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

উপাচার্য পরিষদের বিবৃতির সমালোচনা করে পরিষদের সাবেক এ সভাপতি বলেন, কোনো সময়ই এ সংগঠন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের বিবৃতি দেয়নি। তারা কীভাবে একজন উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিলো সেটি বোধগম্য নয়। উপাচার্য পরিষদ ছাত্রদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ব্যাপারেও কথা বলতে পারতো, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের আহ্বান জানাতে পারতো।

ডাকসুর সাবেক এজিএস নাসির উদ দুজা অবিলম্বে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তো বটেই, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের নৈতিক অধিকারও তার আর নেই।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র, তৃতীয়পক্ষ খোঁজার তীব্র সমালোচনা করে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, ভিসি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাই মিলে এখানে তো একটিই পক্ষ। এখানে আর কোনো পক্ষ খোঁজার দরকার কী?

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে গিয়ে ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল যদি শিক্ষার্থীদের বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন, উপাচার্য তার বাংলো থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারলেন না কেন?

আলোচনায় শওগাত আলী সাগর বলেন, জাফর ইকবাল শাবিপ্রবির লাঞ্ছিত, ক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িযেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্বাস করেছেন, তার উপর আস্থা রেখেছেন। এ বিশ্বাস ও আস্থার যেন কোনোভাবেই অসম্মান না হয়। ‘আমরা প্রতারিত হয়েছি’- এমন ভাবনা যেন কখনোই শিক্ষার্থীদের মনে ঠাঁই না পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

এমকেআর/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]