ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পর্তুগালের উপশহর এলভাস

আবু সাঈদ
আবু সাঈদ আবু সাঈদ , পর্তুগাল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ১৫ মে ২০২২

পর্তুগালের উপশহর এলভাস। দর্শনীয় এ ছোট্ট শহরটি ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। দেশ-বিদেশের শহর মানেই ঘনবসতি, শহর মানেই অধিক মানুষের বসবাস, শহর মানেই প্রতিযোগিতা, শহর মানেই এতসবের মধ্যেও কিছু একটার অভাব।

সেই অভাব কারও চোখে প্রকৃতির। কারও মানবিকতার, আবার কারো চোখে এত মানুষের ভিড়েও নিজেকে কোথাও হারিয়ে নেওয়ার আকুলতা। আর সেই শহরই যদি হয় নিজেরই মনের চিরচেনা রূপে সাজানো-গোছানো তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই।

বলছিলাম, সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্তুগালের ছোট্ট শহর এলভাসের কথা। এলভাস এপিসোপাল শহর ও পূর্ব পর্তুগালের সীমান্ত দুর্গ অ্যালেন্তেজোর পূর্তালেগ্রে জেলায়। এটি লিসবন থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২০ মাইল) পূর্বে ও মাদ্রিদ-বাদাজোজ-লিসবন রেলপথের স্পেনীয় দুর্গ বদাজোজের প্রায় 8 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পর্তুগালের উপশহর এলভাস

২০১১ সালের হিসাবে এলভাস পৌরসভায় জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার। আয়তনে ২৪৩.৭৪৮ বর্গকিলোমিটার। এলভাসের গুয়াদিয়ানা নদীর উত্তর-পশ্চিমে ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল) পাহাড় রয়েছে। আমোরিরা জলস্রোতটি ৬ কিলোমিটার (৩.৭ মাইল) দীর্ঘ শহরটিকে বিশুদ্ধ জল সরবরাহ করতে বিশাল অবদান রেখেছিলো। এটি ১৫শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে শুরু হয়েছিল। ১৬২২ সালে সমাপ্ত হয়।

এলভাস ১১৬৬ সালে পর্তুগালের আফোনসো প্রথম মুরসের কাছ থেকে পরাজিত হয়ে দলখ হওয়ার পরেও ১২২৬ সালে পর্তুগিজ চূড়ান্ত দখলের আগে সাময়িকভাবে পুনরায় দখল করা হয়েছিল। ১৫৭০ সালে এটি এপিসোপাল এলভাসের রোমান ক্যাথলিক ডায়োসিস দেরী গথিক আওয়ার লেডি ক্যাথেড্রাল, যার স্থাপত্যে মুরিশ প্রভাবের অনেক চিহ্ন রয়েছে এটি পর্তুগালের ম্যানুয়েল প্রথমের শাসনামল থেকে (১৪৯৫-১১২১) চলে আসছিলো।

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পর্তুগালের উপশহর এলভাস

সাতটি ঘাটি ও সান্তা লুজিয়ার দুটি দুর্গ ও নোসা সেনহোরা দ্য গ্রাজা ফোর্ট দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। ১৪২৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে এটি টেগাসের দক্ষিণে প্রধান সীমান্ত দুর্গ ছিল, যা ১৬৯৮, ১১১১ ও ১৮০১ সালে স্প্যানিশদের অবরোধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছিল। ১৫৯৫ সালে এলভাসের লাইনগুলো যুদ্ধের স্থান ছিল। এ সময় শহরের গ্যারিসন ও নাগরিকরা একটি স্প্যানিশ সেনাবাহিনীর যাত্রায় সহায়তা করেছিল।

মার্শাল জুনোটের অধীনে নেপোলিয়ন ফরাসী এটি ১৮০৮ সালের মার্চ মাসে গ্রহণ করেছিল। উপদ্বীপ যুদ্ধ, কিন্তু সিন্ট্রা কনভেনশন সমাপ্ত হওয়ার পরে আগস্টে এটি সরিয়ে নিয়ে যায়। উত্তর-পূর্বের ১৫ কিলোমিটার দুর্গটি ফরাসীদের দ্বারা নেপোলিয়ন যুগের অবরোধের জন্য ও ব্রিটিশরা ১৮১১ সালে মার্শাল বেরেসফোর্ডের ত্রাণে স্যার ওয়াল্টার স্কট দ্বারা তৈরি করা একটি শোষণের জন্য পরিচিত ছিলো। এলভাসের গ্যারিসন বর্ডার টাউন ও এর দুর্গগুলো ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে ২০১২ সালে।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]