বাংলাদেশের উন্নয়ন-প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে আলোচনা সভা

জমির হোসেন
জমির হোসেন জমির হোসেন , ইতালি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ২২ মে ২০২২

‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার’ স্লোগান নিয়ে আলোচনা সভা করেছে কানেক্ট বাংলাদেশ। সম্প্রতি অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।

এতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কানেক্ট বাংলাদেশের সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য, গত ৬ বছরের কানেক্ট বাংলাদেশের কার্যক্রমের মূল্যায়ন, শ্রমিক দিবস স্মরণে কানেক্ট বাংলাদেশের দাবি সমূহের যৌক্তিকতা, প্রবাস জীবনে ঈদের আনন্দ। এসব বিষয়ের ওপর বিষদ আলোচনা করেন উপস্থিত বক্তারা।

এসময় আলোচকরা বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য, গত ৬ বছরের ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ এর কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও প্রবাস জীবনে ঈদের আনন্দ ইত্যাদি।

বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষের শুরু হওয়ার পটভূমি ও বাঙালি জীবনে এর গুরুত্ব এবং বাংলা নববর্ষ আজ আমাদের সামাজিক ও জাতীয় জীবনে একটি উৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা পৃথিবীতে বসবাসরত সমগ্র বাঙালি সমাজ খুব আনন্দের সাথে দিবসটি উদযাপন করে যাচ্ছে।

তারা বলেন, ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’এর প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও গত ৬ বছরের কার্যক্রম বর্ণনা তুলে ধরেন। ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ আয়োজিত ৪টি বিশ্ব সম্মেলন ও একটি অনলাইন সম্মেলনের সফলতা তুলে ধরেন।

বিশ্বের ২৩টি দেশে সংগঠনের কমবেশি তৎপরতা তুলে ধরেন সভায়। এই বছর থেকে চারটি জাতীয় দিবসে নিয়মিত অনলাইন সভা অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

এছাড়াও করোনা মহামারি সংকটে সংগঠনের সহযোগিতা কার্যক্রম, প্রবাসীদের ওপর নানা অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ, দেশের উন্নয়নে নিয়মিত আলোচনা, বিতর্ক, প্রস্তাবনা, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দলসমূহে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চাসহ সার্বিক তৎপরতার প্রশংসা করেন বক্তারা।

নির্দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ সত্যি অনন্য। এসময় প্রবাস জীবনে ঈদের আনন্দ এই বিষয়ে অনেকে নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পৃথিবীর অনেক দেশে সম্মিলিতভাবে ঈদ উদযাপন সম্ভব হচ্ছে। ঈদের জামাতে নামাজ পড়া, পাস্পরিক কৌশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় আজ দেশে দেশে সম্ভব হচ্ছে।

প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সম্মিলিতভাবে আনন্দও ভাগাভাগি করে যাচ্ছেন। একই সাথে বিশ্বের অপরাপর জাতির সহিত সৌহাদ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলছেন। মে দিবস স্মরণে আলোচকরা দেশ ও প্রবাসের শ্রমিকদের নানাহ সমস্যা ও অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তারা বলেন, শিশু শ্রম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। নারী শ্রমিকদের ওপর সবধরনের নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে সৌদিসহ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক বিশেষ যত্ন নিতে হবে ও তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের দাবি করেন। আই এল ও সনদ স্বীকৃত বিধান মোতাবেক ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে।

ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, যা কমপক্ষে বিশ হাজার টাকা হতে হবে। কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না। এর বেশি হলে দ্বিগুণ মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। বেতনের এক-তৃতীয়াংশ আবাসন ভাতা চালু করতে হবে।

দেশব্যাপী সর্বজনীন চিকিৎসা সুবিধা চালু করা। শ্রমজীবী, কর্মজীবীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, সর্বজনীন, কর্মমুখী, বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, কর্মজীবীদের সন্তানদের শিক্ষা অবৈতনিক, সর্বোপরি সকল কর্মক্ষেত্রে যৌথ ব্যবস্থাপনা (মালিক প্রতিনিধি, শ্রমজীবী/কর্মজীবীদের প্রতিনিধি, কলাকৌশলীদের প্রতিনিধি চালু এবং পৌর এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারিভাবে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মনসুর চৌধুরী। সভায় আলোচনা করেন উপদেষ্টা রাজু আহমেদ খান, মোহাম্মদ ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কুদরত উল্লাহ, এ বি এম সালেহ উদ্দিন, রহমত সাদি, আফসার হোসেন নীলু, আলম শাহ, তোফায়েল আহমেদ মুক্তা, কামরুজামান, মাসুক মিয়া মামুন, প্রমুখ।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]