স্বপ্নের পদ্মা সেতু, উচ্ছ্বসিত মিশর প্রবাসীরা

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ২৭ জুন ২০২২

মুহাম্মদ ইসমাইল হুসাইন

বাংলাদেশের বিস্ময় স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের ঐতিহ্যের সক্ষমতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে বিশ্ববাসীকে জানান দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়-মনোবল ও দেশ সেবার ব্রত নিয়ে আমরা উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের ২১টি জেলার সঙ্গে দেশের গতিশীল যোগাযোগের অবিস্মরণীয় উচ্ছ্বাস, সফল কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের কারিগরি/প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় সেতুর নান্দনিক ঝলমল আলোক-সজ্জায় শৈল্পিক সৌন্দর্যের মোহনীয়তা দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও দারুনভাবে আকর্ষণ করবে।

আগামী দিনে উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সংগ্রামে আমাদের নতুন করে উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কর্মতৎপরতাকে আরও শানিত করবে- সেতুর ঝলমলে আলোর আড়ালে ম্লান হয়ে যাওয়া নিন্দুক কথিত সুশীলদের অপতৎপরতা।

প্রবাসীরা উচ্ছ্বসিত, আনন্দে উদ্বেলিত হোস্ট কান্ট্রির মানুষের কাছে প্রাণ খুলে বলতে পারবে আমাদেরও আছে ‘পদ্মা সেতু’। বাংলাদেশের গণ-মানুষের বিশ্বাস, আস্থা, নির্ভরতার আঁধার প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বলিষ্ঠ নেতৃত্বের এ সফলতা সশ্রদ্ধচিত্তে সম্মান করি। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে গর্ব বোধ করি।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি দেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এই সেতুর এক অংশে পদ্মা নদীর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অন্য অংশ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। একই সঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে।

চার লেনবিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রেললাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। আগামী বছর রেল চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রথম যাত্রী হিসেবে টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৫ জুন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে টোল দেন।

এরপর তার গাড়িবহর সেতু উদ্বোধনের জন্য ফলকের স্থানে যায়। প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা গাড়ি থেকে নামেন। সেখানে প্রথমে মোনাজাত করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এরপর দুপুর ১২টার একটু আগে সুইচ টিপে সেতুর ফলক উন্মোচন করেন তিনি। এর মাধ্যমেই খুলে যায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সড়ক পথের দ্বার।

মুহাম্মদ ইসমাইল হুসাইন, প্রথম সচিব (শ্রম), বাংলাদেশ দূতাবাস কায়রো, মিশর।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]