পদ্মা সেতু নির্মাণে উচ্ছ্বসিত কুয়েত প্রবাসীরা

জিসান মাহমুদ
জিসান মাহমুদ জিসান মাহমুদ , লেখক ও পর্যটক, কুয়েত
প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ২৮ জুন ২০২২

‘পদ্মা সেতু’ এক স্বপ্নের নাম। এক সময়ের স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃষ্টিসীমায় দিগন্তজুড়ে দাঁড়িয়ে। গত ২৫ জুন দেশের কোটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত এ সেতু প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের কুয়েত প্রবাসীরা। যেটা তারা কখনো ভাবতেও পারিনি সেটা করে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুর অংশীদার প্রবাসীরাও।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় একটা অংশ এই রেমিট্যান্সযোদ্ধারা যোগান দিচ্ছে। শুধু দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের প্রবাসীরা নই, দেশের যে কোনো প্রান্তের পরবাসীরা আজকে গর্ববোধ করছে। তারা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বলতে পারবে ‘আমার টাকায় আমার সেতু, স্বপ্নের পদ্মা সেতু’।

২৫ জুন বাংলাদেশের মতো কুয়েত বাংলাদেশ দূতাবাসেও ছিল নানা আয়োজন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি ভিডিও বার্তায় দেখানো হয়।

সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন শ্রম কাউন্সিলর আবুল হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) ইকবাল আখতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান, প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান নিয়াজ মোরশেদসহ অনেকে

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান বলেন, একটা সময় যমুনার ওপর ফেরী দিয়ে আসা-যাওয়া করতাম। পরে সেতু চালু হওয়ায় আর কষ্ট করতে হয়নি। আজকে স্বাধীনতার পরে পদ্মা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও গৌরবের। এটা আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আজকে আমরা একতাবদ্ধ হতে পেরেছি।

পদ্মা সেতু নির্মাণে উচ্ছ্বসিত কুয়েত প্রবাসীরা

এ সময় পদ্মা সেতুতে প্রবাসীদেরও অংশীদারত্ব রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য বারবার তাগিদ দিয়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

কুয়েত প্রবাসী শহিদুল বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসা-যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌপথ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে নদীপথ পাড়ি দিতাম। পদ্মা সেতু হওয়ায় আমরা মহাখুশি। এখন আর বিমানবন্দর থেকে ফেরী দিয়ে যাতায়াত করা লাগবে না। গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো।

আরেক প্রবাসী রিয়াদ বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের গৌরব। কুয়েত থেকে দেশে মালামাল নিয়ে যেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো, সেটা এখন লাঘব হবে। পদ্মার মতো খরস্রোতা নদীতে সেতু হয়েছে এটা এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। কুয়েতে অবস্থিত ৪৮ কিমি দীর্ঘ সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সুযোগ হলেও প্রবাসে থেকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়া এখনো সম্ভব হলো না।

এর আগে গত ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আনন্দ উৎসব করেছিল বৃহত্তর ফরিদপুর সমিতি। কুয়েতের খাইতান এলাকায় রাজধানী প্যালেস হোটেলে এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মানিক মোল্লা। এতে যোগদান করেন দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রবাসীরা। তারা পদ্মা সেতু নির্মাণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]