দৃষ্টিনন্দন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৮ কিলোমিটার

জিসান মাহমুদ
জিসান মাহমুদ জিসান মাহমুদ , লেখক ও পর্যটক, কুয়েত
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ২৯ জুন ২০২২

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। কর্মসংস্থানের জন্য প্রায় চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস দেশটিতে। কর্মব্যস্ততার মাঝে একটু সময় পেলে প্রবাসীরা ছুটে যান মেরিনা বিচ, এভিনিউস, সবজি বাগান খ্যাত ওফরা কিংবা শেখ জাবের আল কসওয়ে সেতুতে।

সৌদি আরব ও ইরাকের মধ্যবর্তী ছোট্ট এই দেশে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু শেখ জাবের আল কসওয়ে। দীর্ঘতম এই সেতুটি কুয়েত সিটি থেকে আরব সাগরের ওপর দিয়ে যুক্ত হয়েছে বুবিয়ান ও সুবিয়া দ্বীপের সঙ্গে।

সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৮.৫৩ কিলোমিটার। ২০১৯ সালের ১ মে এর উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পটি কুয়েত ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০৩৫ এর অংশ। কুয়েতের ১৩তম আমিরের অবদানকে স্মরণ রাখতে তার নামেই সেতুর নামকরণ করা হয়েছে।

কোরিয়ান কোম্পানি হুন্ডাই ই অ্যান্ড সি ও স্থানীয় কনসোর্টিয়াম কম্বাইন্ড গ্রুপ কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি ২০১৩ সালে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল। কুয়েতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও তাদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব মিলে সেতুটি এক নজর দেখতে আসেন।

দৃষ্টিনন্দন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৮ কিলোমিটার

প্রবাসী বাংলাদেশিরাও কর্মব্যস্ততার মাঝে মনকে প্রফুল্ল রাখতে আরব সাগরের ওপর নির্মিত এই সেতুতে ঘুরতে আসেন। যতদূর চোখ যায় সাগরের প্রতিটি ঢেউ মন কেড়ে নেয়। জলরাশির খেলা শীতের হিমেল ঠান্ডা হাওয়া ধেয়ে আসে দুই পাশ থেকে। মৎস্য ছানারা ছোটাছুটি করে আনমনা হয়ে।

ক্ষুধা নিবারণে শত শত গাংচিল উড়ে বেড়ায় সাগরের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ছোট ছোট জাহাজগুলো দাঁড়িয়ে থাকে মাথা উঁচু করে। ব্রিজ থেকে কুয়েত সিটি দেখলে মনে হয় আরব সাগরে ছোট দ্বীপের মাঝে অবস্থান কুয়েত সিটির। দিনের আলোয় যেমন সৌন্দর্য, তেমনি সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় ব্রিজের সৌন্দর্য আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

সেতুর দুই পাশে বন্দর, প্রশাসনিক ভবন, পর্যটন কেন্দ্র- সব মিলিয়ে ১৫ লাখ বর্গমিটার জায়গার ওপর এটি নির্মিত। সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ পানির ওপরে রয়েছে। এটি কুয়েত সিটিকে যে সুবিয়া দ্বীপের সঙ্গে সংযুক্ত করছে, যেখানে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মেগা-সিটি নির্মিত হচ্ছে। সেতুটি কুয়েতের বৃহত্তম দ্বীপটিকে উপসাগরীয় রাজ্যের রাজধানী থেকে ৩০ মিনিটের দূরত্বে পরিণত করে, যা এর আগে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ ছিল।

দৃষ্টিনন্দন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৮ কিলোমিটার

সেতুর মাঝখানে প্রতি চারটি পিলার পরপর দুটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কিছুদূর পরপর ইংরেজি ও আরবিতে লেখা দিকনির্দেশনা সাইনবোর্ড। যেন সবাই সহজে বুঝতে পারে। এছাড়া এখানে গাড়ির গতি ৮০ থেকে ১০০ রাখার নির্দেশিকা রয়েছে। সেতুর ওপর গাড়ি পার্কিং নিষেধ থাকলেও পর্যটকরা চলার পথে গাড়ি থামিয়ে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকেন।

কেউবা ভিডিও কল ও ফেসবুকে লাইভ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। খুবই সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন একটি জায়গা এটি। সমুদ্রের মাঝে দ্বীপ, বিশাল মরুভূমি, সমুদ্র মাঝখানে কৃত্তিম উপায়ে তৈরি করা বিভিন্ন প্রজেক্ট। বলতে গেলে সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ। কুয়েতের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পর্যটকদের নজর কাড়ার মতো।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]