কানাডার ১৫৫তম জাতীয় দিবস পালিত

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি কানাডা
প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ০২ জুলাই ২০২২

বিশ্বের রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীর দেশ কানাডার ১৫৫তম জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত এ দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে প্রবাসী বাঙালিরাও।

প্রতি বছর ১ জুলাই কানাডিয়ান ন্যাশনাল ডে উদযাপন করা হয়। ১৮৬৭ সালের এই দিনে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে কানাডা। এরপর থেকেই স্বাধীন জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করে আসছে কানাডিয়ানরা।

দিবসটি উপলক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের প্রায় প্রতিটি স্থানে আয়োজিত উৎসবে মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিলো।

কানাডার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর কেক কাটা, ছোট শিশু-কিশোরদের ফেসপ্রিন্টসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কানাডার ‘নতুন দেশ’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, বহু সংস্কৃতির দেশ কানাডা তার অভিবাসী নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করতে চায়। ‘কানাডা ডে’ উদযাপনে নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের গল্পগাঁথা তুলে ধরার উৎসাহ দেওয়া হয় এখানে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি কানাডিয়ানরা সে সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। তারা বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে কানাডার মূলধারার সংস্কৃতিতে। ‘কানাডা ডে’ বাংলাদেশিদের জন্যও নিজ দেশের এতিহ্যকে তুলে ধরার একটি প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

কানাডার ‘সিবিএনএ২৪’ এর প্রধান সম্পাদক সদেরা সুজন বলেন, বাংলাদেশি হয়েও কানাডার ১৫৫তম জন্মদিনে অংশ নিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে, ১৫৫তম জন্মদিনে এটাই আমার প্রত্যাশা।

ক্যালগেরির এবিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ড.মো. বাতেন বলেন, দূর-প্রবাসে থাকলেও মাতৃভূমি আমাদের হৃদয়ে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আমাদের আশার আলো দেখায়। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম রোল মডেল দেশ। আরও বাঙালি জ্ঞান অর্জনের জন্য এদেশে আসুক ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক, কানাডার জন্মদিনে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতত্ত্ব বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, বহুজাতিক সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মানবিক সমাজ ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ কানাডা। শান্তি, সাম্য আর সমৃদ্ধির পথে কানাডা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে, এটিই আজকের প্রত্যাশা।

বালাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সভাপতি মো. রশিদ রিপন বলেন, কানাডার ১৫৫তম জন্মদিনে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশিদের আমরা কানাডায় প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বসু বলেন, আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, বাংলাদেশ আজ অনেকদূর এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। কানাডার ১৫৫তম জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা।

সিলেট অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সভাপতি রূপক দত্ত বলেন, আমরা আনন্দিত যে, কানাডায় বসে দেশটির ১৫৫তম জন্মদিনে অংশ নিতে পারছি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশি এদেশে এসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে, এমনটাই কামনা করছি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কয়েস চৌধুরী বলেন, আমরা যারা অভিবাসী হয়ে এদেশে আসি, সবারই হৃদয় পড়ে থাকে নিজ দেশে। দেশের উন্নয়ন আমাদের গর্বিত করে, বিশ্বের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। কানাডার ১৫৫তম জন্মদিনে অফুরন্ত ভালবাসা। দীর্ঘজীবী হোক কানাডা।

ক্যালগেরি বঙ্গীয় পরিষদের সভাপতি জয়দীপ সান্যাল বলেন, বাংলাদেশ যেমন আমাদের অহংকার, পাশাপাশি কানাডাও আমাদের কাছে অহংকার। কানাডার জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, ১৯৭১ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যে ক'টি দেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, কানাডা তাদের মধ্যে অন্যতম।

বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কিরন বনিক শংকর বলেন, বিশ্ববাসী আজ বাংলাদেশ নিয়ে ভাবছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসী হয়েও আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করি, অহংকার করি।

ক্যালগেরির প্রবাসী লেখক বায়াজিদ গালিব বলেন, কানাডার জন্মদিনে আমরা চাই বাংলাদেশ ও কানাডার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক। জন্মদিনে কানাডার আরও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি হোক, প্রচুর বাঙালিরা এখানে এসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে বিরাট ভূমিকা রাখুক, এমনটাই প্রত্যাশা এখানকার প্রবাসী বাঙালিদের।

এমপি/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]