কারবালা থেকে কায়রো!

আফছার হোসাইন
আফছার হোসাইন আফছার হোসাইন (মিশর থেকে)
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২২
ছবি: জাগো নিউজ

ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম, আশুরা হলো মহররমের দশম তারিখ। ৬১ হিজরীর মহরম মাসের ১০ শুক্রবার অপরাহ্ণে ইরাকের কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর এজিদের কুফা গভর্নর ওবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদ বাহিনীর হাতে ইমাম পরিবারের পুরুষ বলতে সবারই শাহাদাত ঘটে।

শাহাদতের পর ইবনে জিয়াদের নিষ্ঠুর সেনা নরপিশাচ সীমার ইবনে জিলজুশান মুরাদী নিজ হাতে ছুরি চালিয়ে মহানবী সাইয়েদীনা মোহাম্মদের (সঃ) দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ইবনে আলীর (রা) পবিত্র শরীর থেকে মস্তককে আলাদা করে, মস্তকসহ ইমাম পরিবারের মহিলা ও শিশুদের কুফায় ইবনে জিয়াদের কাছে পাঠান।

ইবনে জিয়াদ ঈমাম পরিবার ও হযরত হোসাইনের (রাঃ) শির মোবারক দামেস্কে এজিদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এজিদ আহলে বায়াতের নারী ও শিশুদের মদীনা মুনাওয়ারায় পাঠান হযরত ঈমাম হোসাইনের (রা) শির মোবারক দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের মাঠে সমাহিত করেন।

কারবালা থেকে কায়রো!

পরের ঘটনা প্রবাহের পর ঈমাম হোসাইনের (রাঃ) শির মোবারক দামেস্ক থেকে কুফা ও বিভিন্ন জায়গায় প্রদক্ষিণের পর ভূমধ্যসাগরের তীরে ফিলিস্তিনের আস্কালান নামক জায়গায় দাফন করা হয়।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মাকিরজি বলেন, ঈমাম হোসাইন (রাঃ) মাথা মোবারক ফিলিস্তিনের আস্কালান থেকে ৮ জমাদিউল আখের ৫৪৮ হিজরিতে উত্তোলন করে সোনারুপা খচিত সবুজ রঙের একটি বাক্সে করে মিশরের কায়রোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুইদিন পর মাথা মোবারক মিশরে পৌঁছানোর পর তৎকালিন রাজা আমীর সাইফ সেই মাথা মোবারক গ্রহণ করেন।

কারবালা থেকে কায়রো!

তখন ঈমাম হোসাইন (রঃ) মাথা মোবারককে দেখার জন্য মিশরের লাখ লাখ মানুষ কায়রোতে ছুটে আসেন। অতঃপর ১০ জমাদিউল আখের ৫৪৮ হিজরিতে বিশ্বের প্রখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশালকার প্রধান মসজিদের পাশেই হযরত ঈমাম হোসাইনের (রাঃ) মস্তক মোবারক পুনঃসমাহিত করা হয় ও একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

হোসেইনের (রা.) শির মোবারক নিয়ে আরও প্রচলিত আছে যে, তার পবিত্র শির ইয়াজিদের নির্দেশে গোলাপজল দিয়ে কয়েকবার ধোয়া হয় এবং কয়েকটি কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হয়। তখন ইয়াজিদের রাজদরবারে আস্কালান (দক্ষিণ ফিলিস্তিনের অঞ্চল) একদল লোক ছিলেন, তারা তা দাফন করার আগ্রহ ব্যক্ত করলে তাদের দেওয়া হয়। তারা তা দামেস্কের আসকালানে দাফন করেন।

কারবালা থেকে কায়রো!

১০৯৬ থেকে ১২৯০ সালের মাঝামাঝি ইউরোপীয় খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালালে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে অচিরেই ক্রুসেডাররা আসকালান নগরীতে অবস্থিত হজরত হোসেইনের (রা.) শির উত্তোলন করবে। তাই ফাতেমি শাসকেরা তার মস্তক উত্তোলন করে মিশরে নিয়ে আসেন ও কায়রো আল-আজহার মসজিদের পাশে দাফন করেন।

যা, আজকের সাইয়েদীনা হোসাইন মসজিদ নামে পরিচিত।

সূত্র: তাসাউফের শায়খ জাকিউদ্দিন ইবরাহীম ‘‘ﺭﺃﺱ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﺑﻤﺸﻬﺪﻩ ﺑﺎ ﺍﻟﻘﺎ ﻫﺮﻩ ﺗﺤﻘﻴﻘﺎ ﻣﺆﻗﺪﺍ ﺣﺎﺳﻤﺎ’’ নামক কিতাব ও মিশরের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী ড. আলী জুমা লিখিত ‘‘ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ﺍﻟﻘﺆﻳﻢ’’ নামক কিতাব।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]