মিশিগানে শিগগির স্থায়ী কনস্যুলেট অফিস করার দাবি

আশিক রহমান
আশিক রহমান আশিক রহমান
প্রকাশিত: ১০:১২ এএম, ২০ আগস্ট ২০২২

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে প্রায় ১ লাখ মানুষের বসবাস। একটি স্থায়ী কনস্যুলেট না থাকায় তাদের দূতাবাসের সেবা পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়। ওয়াশিংটন দূতাবাস সাময়িক সেবা দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাংলাদেশিদের। তাদের দাবি, মিশিগানে একটি স্থায়ী কনস্যুলেটের।

সেবাপ্রত্যাশী অঞ্জন কুমার রায় অভিযোগ করে বলেন, যখন জানতে পেরেছি মিশিগানে ভ্রাম্যামাণ সেবা দিতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা আসবেন, সাথে সাথেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করি কিন্তু এই ভ্রাম্যমাণ সেবায় ই-পাসপোর্ট করতে ফিঙ্গারপ্রিন্টের সময় অনেক দেরিতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, পরিবারের চারটি পাসপোর্ট তৈরি করতে মিশিগান থেকে দীর্ঘ পথ ও সময় ব্যয় করে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। এটা অনেক ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।

আরেক ভুক্তভোগী নিপা বেগম জানান, গত বছর অনুষ্ঠিতব্য ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবায় তার মা নিলুফা বেগমের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) তৈরি করতে সব কাজপত্র জমা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মায়ের নতুন পাসপোর্ট পাননি। পাসপোর্টের জন্য জমা দেওয়া টাকার রসিদ ও দূতাবাস থেকে ফেরত আসে।

তিনি বলেন, আমার বৃদ্ধ মায়ের পাসপোর্টের জন্য জমা দেওয়া টাকা এখনো ফেরত পাইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সদুত্তর পাইনি। আজকে এখানে এসেছি, কেউ আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করছে না।

অনলাইনে আবেদন করে ই-পাসপোর্টের জন্য সেবা নিতে আসা লাকী পাল জানান, আমাদের পরিবারে আটটি পাসপোর্ট। আমরা সবাই আসছি ই-পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে। এখানে এসে দেখলাম আয়োজকসহ ভলান্টিয়াররা আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন। সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

শিক্ষার্থী খায়রুল মোত্তকিন বলেন, আমি খুবই ভাগ্যবান। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানতে পারলাম আমিই দূতাবাসের বাইরে কনস্যুলেট সেবার মাধ্যমে প্রথম ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি। এখানে দূতাবাসের কর্মকর্তারা অনেক সহযোগিতা করছেন। তাদের সেবা অনেক ভালো।

বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটন ডিসির তত্ত্বাবধানে মিশিগানের হ্যামট্র্যামক সিটির আমিন রিয়েলিটি অফিসে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। সকাল ১০টা থেকেই জড়ো হতে থাকেন বাংলাদেশিরা। এ সময় তপ্ত রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশুসহ বয়স্ক মানুষেরা।

দূতাবাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছেন ফারুক আহমেদ চান, আব্দুস শাকুর খান মাখন, আবু আহমেদ মুসা, মোহাম্মদ মোতালিব, আহাদ আহমেদ, সৈয়দ মতিউর রহমান, জাবেদ চৌধুরী ও সুমন কবির।

তারা বলেন, আমরা সবাই চেষ্টা করছি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে। ই-পাসপোর্টের সীমাবদ্ধতা থাকায় এটি ছাড়া আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্যান্য সেবাগুলো দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবো।

এদিকে মিশিগানে স্থায়ী কনস্যুলার অফিস স্থাপনের দাবিতে আজ বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য দূতাবাসকে আহ্বান জানান। আগামী দিনগুলোতে মানববন্ধন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হ্যামট্রামেক সিটির বাংলাদেশি-আমেরিকান বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর নাইম চৌধুরী বলেন, মিশিগানে প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি-আমেরিকান বসবাস করেন। জীবন যাত্রার তাগিদে এখানে প্রতিদিনই মানুষ আসছে দেশ থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস বছরে একবার ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সার্ভিস দিয়ে থাকে। এই অল্প সময়ে আমরা প্রয়োজনীয় সেবা পাই না।

তিনি বলেন, মিশিগান থেকে আমরা প্রতি মাসেই মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকি। অধিকাংশ বাংলাদেশির পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা থাকায় আপনজনকে দেখতে সময়মতো প্রিয় মাতৃভূমিতে যেতে পারেন না। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঝামেলায় অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে দেশে যেতে পারেন না। রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিগগির মিশিগানে স্থায়ী কনস্যুলেট অফিস করার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটনের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট অ্যান্ড ভিসা) মো. আব্দুল হাই মিল্টন বলেন, ই-পাসপোর্টসহ অন্যান্য সেবাগুলো দিতে আমরা বিমানে না এসে সড়কপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ২টি বড় প্রিন্টারসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে আসি। এটাই প্রথম দূতাবাসের বাইরে ই-পাসপোর্টের জন্য ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা। মেশিনের সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে ৪ দিনে ১৩৬টি ই-পাসপোর্ট তৈরি করতে পারব।

তিনি বলেন, যদি যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি না হয় তাহলে যথাযথভাবেই কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। এখানে এসে দেখতে পাচ্ছি অনেকেই পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে চিন্তিত। মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চাহিদা দেখে আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। চলতি বছরেই আরেকটি সেবা সপ্তাহ করা যায় কিনা ভেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এনভিআর, ডিএনসি, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]