শ্রমিক সংকট কাটাতে ‘গ্রিন কার্ড’ চালু করছে জার্মানি

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০২২
জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে | ছবি: গ্যাটি ইমেজেস

দক্ষ কর্মীর সংকট কাটাতে শিগগিরই ‘গ্রিন কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছে জার্মানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত নয় এমন দেশের মানুষরা এই কার্ডের সুযোগ নিয়ে জার্মানিতে কাজ খুঁজতে আসতে পারবেন। তবে, আইনটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়।

জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী ঘাটতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশ থেকে কর্মী এনে এই ঘাটতি পূরণ করা কি সম্ভব হবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জার্মানি শ্রমবাজার ঠিকঠাক রাখতে প্রতি বছর চার লাখ বিদেশি কর্মী আনা প্রয়োজন।

ইনস্টিটিউট ফর এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের এহসান ভালিজাদেহ এই বিষয়ে বলেন, ‘বেবি বুমার’ প্রজন্ম ক্রমশ অবসরে যাওয়ায় শ্রমবাজার খুব সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে আমাদের অভিবাসী প্রয়োজন। জার্মানির প্রতি বছর চার লাখ বিদেশি কর্মী প্রয়োজন।

দক্ষ কর্মীর এই ঘাটতি মেটাতে জার্মানি তাই ‘শ্যচেনকার্টে’ বা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ চালু করার চিন্তা করছে। এটি ‘গ্রিন কার্ড’ হিসেবেও পরিচিত।

এই কার্ড বিদেশিদের চাকরি খুঁজতে জার্মানি আসার সুযোগ দেবে। অর্থাৎ কোনো রকম চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়াই তারা জার্মানিতে আসতে পারবেন।

তবে, ‘গ্রিন কার্ড’ পেতে হলে একজন বিদেশিকে চারটি শর্তের যেকোনো তিনটি পূরণ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে:

০১. বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন থাকতে হবে

০২. কমপক্ষে তিন বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে

০৩. জার্মান ভাষা জানতে হবে বা অতীতে জার্মানিতে থেকেছেন এমন প্রমাণ দিতে হবে

০৪. বয়স ৩৫ বছরের কম হতে হবে

‘গ্রিন কার্ড’ পেতে আগ্রহী বিদেশিদের এসব শর্তের মধ্য থেকে তিনটি শর্ত পূরণের পাশাপাশি এটাও প্রমাণ করতে হবে যে জার্মানিতে চাকরি খোঁজার জন্য থাকার সময়টাতে তিনি নিজের খরচ নিজেই বহন করতে পারবেন।

আর চাকরি যদি না পান, তাহলে একটা সময় জার্মানি ছেড়ে চলে যেতে হবে

জার্মানির শ্রমমন্ত্রী হ্যুবেয়ার্টস হাইল ‘গ্রিন কার্ড’ প্রসঙ্গে বলেছেন যে, ‘এটা হচ্ছে যোগ্য অভিবাসন এবং এক অ-আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যাপার। ফলে এটা বলা গুরুত্বপূর্ণ যে যারা অপরচুনিটি কার্ড পাবেন তারা যখন এখানে থাকবেন তখন রোজগারে সক্ষম হবেন।’

বলে রাখা ভালো, জার্মানির ‘গ্রিন কার্ড’ চালু করার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগ পর্যন্ত তাই কেউ এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। জার্মান শ্রম মন্ত্রণালয় বর্তমানে এ সংক্রান্ত আইনটির খসড়া প্রস্তুত করছে। শিগগিরই সেটি অনুমোদনের জন্য সংসদে তোলা হবে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]