ফ্রান্সে ‘পুনর্মিলনী’ ভিসা পদ্ধতি নিয়ে রাজপথে বাংলাদেশিরা

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০১ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২২

শাহ সুহেল আহমদ, ফ্রান্স (প্যারিস) থেকে

পুনর্মিলনী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজীকরণের জন্য ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আন্দোলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন সলিডারিতে অ্যাসি ফ্রঁস (সাফ)’র উদ্যোগে রোববার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্লেস ডে লা বুর্স থেকে প্লেস ডু পালিস রয়েল পর্যন্ত পদযাত্রা হয়।

এ আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষ ও সোশ্যাল অ্যাসোসিয়েশন লা সিমাডে লিগু ডেস ড্রটস ডে হোম্ম, ড্রইট আউ লজেন্ট সিএসপি৭৫ এশিয়ার নেতারা অংশ নেন।

আন্দোলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্যারিস ১৮ এর কাউন্সিলর আনজুমান সিসকো, লা সিমাদ- ইল দ্য ফ্রঁস’র সেক্রেটারি মারি, ফরাসি সাংবাদিক মেলিন ইসক্রুহুলিয়া, এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল্লাহ কয়েছ।

এছাড়া সাফ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী জুলহাস, মামুন, শাহিন আহমদ, আতিক রহমান, মনি বিশ্বাস, আনোয়ার হোসাইন ফয়সাল, সাইদুর রহমান, পারভেজ ফখরুল ইসলাম, সাদ মাহবুবুর রহমান, হাসান আলমগীর এম, তানজিম আহমদ তুহিন, রুমন আহমদ চম্পা রানী পাল, শাহীনুর আলম তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

এ আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন ফ্রান্সের রাজনৈতিক দল ফ্রেঞ্চ কমিউনিস্ট পার্টি। আয়োজক সংগঠন সলিডারেটস এশিয়া ফ্রান্সের (এসএএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট নয়ন এনকে বলেন, ফ্রান্স মানবিক আদর্শ চর্চার অন্যতম একটি দেশ। এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ বসবাস করে থাকেন। বিশেষ করে নিয়মিত অভিবাসীরা তাদের পরিবারকে কাছে পেতে স্ব স্ব দেশের ফরাসী দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি আবেদনকারীও রয়েছেন।

ফ্রান্সে ‘পুনর্মিলনী’ ভিসা পদ্ধতি নিয়ে রাজপথে বাংলাদেশিরা

তিনি বলেন, এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফরাসী দূতাবাসগুলো পরিবার পুনর্মিলনীর ভিসা দিতে দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ এবং নানা অজুহাতে ভিসা আবেদন নামঞ্জুর করা হয়ে থাকে। ফলে ফ্রান্সে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের পরিবার ভিসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অযৌক্তিক হয়রানির শিকার হয়। আমরা চাই এসব সমস্যা সমাধানে ফ্রান্স সরকার যেন দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

এসএএফএর প্রেসিডেন্ট নয়ন এনকে বাংলাদেশিদের এই সমস্যা নিয়ে তার লা ফ্রান্স ইনসুমিজ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ফরাসী সংসদ সদস্য ডানিলে অবনোর সঙ্গে এর আগে দেখা করেন এবং বিস্তারিত আলাপ করে তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পরিবারগুলো ‘পুনঃ একত্রীকরণ’ ও ‘পুনর্মিলনী’ ভিসা আবেদনকারীদের ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে।

এ ব্যাপারে ফরাসী সংসদ সদস্য ডানিলে অবনোর এই পরিস্থিতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং ২১ জানুয়ারি ২০২১ তিনি বিষয়টি আলোচনা করে বাংলাদেশে ফরাসী দূতাবাসে একটি চিঠি লেখেন।

চিঠি লেখার কিছুদিন পরে থেকে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া, ফলে এরই মধ্যে অনেকের পরিবার ভিসা পায়। সম্প্রতি আবার অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সলিডারেইট এশিয়া ফ্রান্স এ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]