৭ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো সাইপ্রাস

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫২ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুটি ভাগে বিভক্ত: উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে। দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। ছবি: ফ্লিকার

২০২২ সালে প্রায় সাত হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সাইপ্রাস। দেশটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নুরিসের মতে, অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে সাইপ্রাস একটি মডেল দেশ।

আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া বিপুল সংখ্যক অনিয়মিত আশ্রয়প্রার্থীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে সাইপ্রাস। চলতি বছরের জুলাই মাসে সেই সময় পর্যন্ত দুই হাজার ৭৭০ জনকে ফেরত পাঠানোর তথ্য দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নুরিস।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানী নিকোসিয়ায় উচ্চ-স্তরের একটি বৈঠকে প্রায় সাত হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত ‘নেটওয়ার্ক অন রিটার্নস’ নামক একটি বিল উপস্থাপন করেন নিকোস নস নুরিস। বৈঠকে ইইউ’র সদস্য রাষ্ট্র, ফ্রন্টেক্স এবং ইউরোপোলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে তিনি বলেন, সাইপ্রাসের লক্ষ্য হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো যেন ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত সংস্থা (ফ্রন্টেক্স)-এর পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০,৭৪৮ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে যা ২০২১ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশবেশি।

২০২২ সালের নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত ইউরোপের বহিঃসীমান্তে ২,৩০০ জন কর্মী, ৬০টিরও বেশি জাহাজ এবং ২৭০টিরও বেশি টহল গাড়ি মোতায়েন করেছে ফ্রন্টেক্স। যার আওতায় সাইপ্রাসেও ২৫ জন ফ্রন্টেক্স কর্মী এবং ১৫ জন প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন।

তবে প্রত্যাবাসনের ওপর সরকারের নজরদারি বৃদ্ধি ও বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ সত্ত্বেও দেশটিতে নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন কমেনি।

অভিবাসন প্রবাহ থামাতে সরকার নর্দান সাইপ্রাসের সঙ্গে থাকা বাফার জোনের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতারের বিতর্কিত বেড়া স্থাপন এবং নতুন নীতি প্রবর্তনসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সাইপ্রাসে বর্তমানে দুটি ‘সহায়তামূলক স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন’ কর্মসূচি রয়েছে৷ যার একটি আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং অন্যটি সিভিল রেজিস্ট্রি এবং মাইগ্রেশন বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হয়।

তবে আইওএম বলেছে, এই প্রোগ্রামগুলো সফল করতে অভিবাসী, সুশীল সমাজ, আয়োজক দেশ এবং ট্রানজিট দেশের পাশাপাশি অভিবাসীদের যে দেশের সেই দেশের সরকারগুলির সহযোগিতা প্রয়োজন।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]