Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৭ | ১২ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ : ফের আলোচনায় সিনারফ্লাক্স


আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে

প্রকাশিত: ০৬:৫১ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৬, শনিবার | আপডেট: ০৭:০০ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৬, শনিবার
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ : ফের আলোচনায় সিনারফ্লাক্স

শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার। এই শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেট করতে মরিয়া সিনারফ্লাক্স কোম্পানি। বিতর্কিত এ কোম্পানির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)। সিনারফ্লাক্স  নামে এই মানবশক্তি কোম্পানি বাংলাদেশিদের নিয়ে মনোপলি ব্যবসা শুরু করার পাঁয়তারা করছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেসটিনেট বিতর্কিত হয়ে পড়ায় সিনারফ্লাক্স নামে এ কোম্পানি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে একটি নথি পাঠায়। যেখানে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিডাব্লিউএমএস) নামে নতুন একটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি সিনারফ্লাক্স এসডিএন বিএইচডি নামে একটি কোম্পানির হাতে দেয়া হয়।

নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি শ্রমিকদের বায়ো মেডিকেল চেকআপ থেকে শুরু করে ভিসা প্রসেসিং, পাসপোর্ট তৈরি এবং নবায়নের বিষয়গুলো পর্যন্ত সিনারফ্লাক্স দেখভাল করবে। শ্রমিকদের নিয়োগ এবং নিবন্ধনের বিষয়টিও থাকবে এই কোম্পানির হাতে। বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফেরত আনার কাজটি কাগজে-কলমে করছে বেসটিনেট। তবে আদতে ইমিগ্রেশন বুথ থেকে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বাড়তি এক হাজার রিঙ্গিত নেয়া ছাড়া কিছুই করছে না কোম্পানিটি। এক্ষেত্রে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনও অনেকটা অসহায় বলে জানিয়েছে সূত্র।

বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মালয়েশিয়ার বিষয়টি দেখতো বেসটিনেট। কিন্তু এবার ঢাকায় মালয়েশিয়ার দূতাবাসেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে সিনারফ্লাক্স। ফলে বাংলাদেশিদের হাতে থাকবে না শ্রমিক নিয়োগ এবং শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। সিনারফ্লাক্সের এ অপকর্মের পেছনে পুরনো কোম্পানি বেসটিনেটকেই ইঙ্গিত করছে একটি সূত্র। এর মূলে রয়েছেন আমিনুর রশিদ নামে এক বাংলাদেশি, যিনি বেসটিনেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বেসরকারি এই আইটি কোম্পানিটির একজন পরিচালক হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রী আজমী খালিদ এবং শ্রম বিভাগের সাবেক পরিচালক দাতুক টেংকু ওমর টেংকু বট।

এদিকে মালয়েশিয়ায় পুনরায় শ্রমবাজার খুলতে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি হাইকমিশনারের নেতৃত্বে দেশটির মানবসম্পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের বন্ধ শ্রমবাজার খুলে দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এখন অনলাইন ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম চলছে। শিগগিরই দেশটি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, সম্ভাবনাময় এ বাজারটি যাতে চালু না হয় এ নিয়ে একটি মহল চক্রান্ত করছে। আর এ চক্রান্তে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এ সেক্টরের অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আসার বাধা দূর হয়ে গেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনে দেয়া গত মাসের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সোর্স কান্ট্রি দেশগুলো থেকে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি তুলে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে ‘জিটুজি’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। সে অনুযায়ী শুধু সরকারিভাবে মালয়েশিয়ার ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে শ্রমিক পাঠানো হয়েছিল। ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে কাজ করতে আগ্রহীর সংখ্যা কম হওয়ায় ওই উদ্যোগে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।

পরে মালয়েশিয়ার জনশক্তির জন্য বাংলাদেশ ‘সোর্স কান্ট্রির’ তালিকায় এলে সেবা, উৎপাদন, নির্মাণসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হওয়ার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বিএ/আরআইপি

আপনার মন্তব্য লিখুন...