লন্ডনে বাংলাদেশ সেন্টারের অনিয়মের রিপোর্ট প্রকাশের আশ্বাস

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪৮ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৯

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন ও অর্থ তহবিল সংগ্রহে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে লন্ডনের বাংলাদেশ সেন্টার।

আগামী ৩১ মার্চ বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি ব্যাংকুটিং হলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশ সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত যুক্তরাজ্যের সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও নবনির্বাচিত ম্যানেজমেন্ট কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বাংলাদেশ সেন্টার।

এ উপলক্ষে ২২ মার্চ বাংলাদেশ সেন্টারের পক্ষ থেকে লন্ডনের বাংলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে ওঠে আসে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আর্থিক অনিয়মের কথা।

ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারে কী পরিমাণ অনিয়ম হয়েছিল তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ম্যানেজমেন্ট কমিটি। বছরের পর পর কেন এই অনিয়মের তদন্ত শেষ হচ্ছে না তারও ব্যাখা দেন ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা।

মিডিয়া ও প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক আলী আহমেদ বাবুল-এর পরিচালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সেন্টারের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সেন্টারের প্রধান উপদেষ্টা নবাব উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান মুহিব, শাহানুর খান, কবির উদ্দিন, গুলনাহার খান, চিফ ট্রেজারার মামুন রশীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আহমদ রাজু, তারাউল ইসলাম, সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক শওকত মাহমুদ টিপু, নিজাম উদ্দিন ও সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- ভবনের সংস্কার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে তারা বাংলাদেশ সেন্টারের মূল ভবন থেকে কাজ করতে পারবেন। সেখানে পূর্বের মতই আরবি শিক্ষা, শিশুদের বাংলাদেশি সংস্কৃতির শিক্ষার ব্যবস্থা, বয়স্কদের জন্য হেলথ প্রোগ্রামসহ নানা কার্যক্রম চালু করা হবে।
london
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সেন্টারের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ও সময়ের স্বল্পতার কারণে এবার সমগ্র যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মহান সব সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা যাচ্ছে না। সেজন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে আগামীতে সমগ্র যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মহান সব সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিশাল পরিসরে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ব্যাপারে তারা সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সেন্টারের সেন্ট্রাল লন্ডনের ২৪ প্রেমব্রিজ গার্ডেনের এ ভবনটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মৃতি বিজড়িত। এ ভবনটি থেকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আরও বলেন, যুদ্ধকালীন এখানে বসেই বাংলাদেশ স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনের কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এ ভবনটিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়। বহির্বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা হিসেবে ছিল এটি সর্বপ্রথম।

বলা হয়, ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এ ভবনটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারের এ ভবন আমাদের পূর্ব পুরুষের সূদুরপ্রসারী চিন্তা-চেতনার ফসল। সেন্ট্রাল লন্ডনের চেলসি অ্যান্ড কেনসিংটন বারায় অবস্থিত এ ভবনটি বাংলাদেশের গৌরবের পতাকা বহন করে।

এ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় আমাদের মুরুব্বীয়ানরা যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন, এজন্য তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এটি এখন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐতিহ্য, গৌরব ও মর্যাদার অন্যতম প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শত বছরের পুরনো এই লিস্টেড বিল্ডিংটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আমরা আশা করছি, ‘এ বছরের মধ্যে সেন্টারের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ সেন্টারের এ অগ্রযাত্রার পেছনে বাংলাদেশ হাইকমিশন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, স্থায়ী সদস্য, আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্যসহ কমিনিউটির সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক সাহায্য, সহযোগিতা ও সমর্থন ছিল উল্লেখ করার মতো। ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়।’

ফিরোজ আহম্মেদ (বিপুল)/এমআরএম/আরএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :