প্রবাসীদের মূল্যায়ন করতে হবে : মালয়েশিয়ান নাগরিক

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

মালয়েশিয়ান নাগরিক কুয়েস্টার ফং বলেছেন, দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। মালয়েশিয়ায় স্ব-সাহসে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন বাংলাদেশের শ্রমিকরা। তাদের শ্রমের মূল্যায়ন না করাটা সত্যিই অন্যায়।

শুক্রবার রাতে গ্রাবে করে বাসায় ফেরার সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির ওই নাগরিক এসব বলেন। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, মালয়েশিয়ায় সবাই ভালো জীবন খুঁজে পায় না। কখনও কখনও তারা শোষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছে। দু’দেশের সরকারের কিছু নীতি নির্ধারণের কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকরা অনেক ঝামেলায় পড়ছে।

ফং রিয়েল এ্যাস্টেট নিগোটিয়েটর। পার্টটাইম গ্রাব চালান। ফং গর্বের সহিত বললেন, আমি বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছর কাজ করেছি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনে। তাদের কাজের দক্ষতা অনেক ভালো।

ফং বলেন, আপনি হয়ত ভাবছেন আপনার দেশের শ্রমিকদের প্রশংসা করছি আপনাকে খুশি করতে। না, সত্যিই তাদের কাছ থেকে আমি কাজের দক্ষতা অর্জন করেছি। আজ আমি দুইটি কোম্পানির মালিক। আরা দামানসারা তার কোম্পানিতে ১২জন বাংলাদেশি কাজ করছেন। আমি তাদের নিজের ভাইয়ের মতো বেশি আপন মনে করি। কারণ, তাদের শ্রমে ও তাদের দক্ষতায় আজ আমি দুটি কোম্পানির মালিক।

Maleshia2

ফংকে গাড়ি চালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করাতেই হাসিমুখে বললেন, আপনি যে প্রশ্ন করতে চাচ্ছেন আমি গ্রাব কেন চালাই? তাইত? হ্যাঁ। যখন আমি অবসর থাকি তখন রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নেমে পড়ি। তাও বেশিরভাগ যাত্রী বাংলাদেশি।

এদিকে, দেশে থাকা পরিবার পরিজনদের আকাশচুম্বী চাওয়া-পাওয়ার অনেকটাই নির্ভর করে প্রবাসীদের উপার্জনের ওপর। হাসিমুখে তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যাচ্ছে দেশ এবং পরিবারকে। কেউ কেউ পরিবারের মুখে হাসি ও স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনলেও অনেকেই প্রবাসে অসহায়ত্বের গ্লানি টানার মধ্যেও তাদের একটাই কথা পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশে এসেছি টাকা রোজগার করতে।

শনিবার সরেজমিনে কুয়ালালামপুর পিএনবি ১১৮ ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, অভিবাসী শ্রমিকরা বীরদর্পে কাজ করছেন। কথা হয় তাদের সঙ্গে। মালয়েশিয়াবাসী কিছু অভিবাসী শ্রমিকের দিকে নজর রাখছেন এমন কয়েকজন মালয়েশিয়ান নাগরিকদের সঙ্গেও কথা হয়, তারা বলছেন পরবাসী হয়েও যারা আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন, যে চাকরিগুলো আমাদের মালয়েশিয়ানরা করেন না সেগুলো অভিবাসী শ্রমিকরা করছেন।

তারা ফং এর মতো একই কথা বললেন, অবশ্যই এসব প্রবাসী শ্রমিকদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। তারা বলছেন, আমাদের জাতিগত অবস্থার পরিবর্তনের ফলে, আকাশচুম্বী এবং কাঠামোগুলো আকাশমন্ডলকে ডুবিয়ে দিচ্ছে পরবাসীরা। এই আকাশচুম্বি কাঠামোগুলো বেশিরভাগই এই শ্রমিকদের নির্মিত বলে মন্তব্য করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মালয়েশিয়ান নাগরিক।

Maleshia2

সুনামগঞ্জের হারুন মিয়া, নড়াইলের সত্ববাবু, রাজশাহীর সাজু মিয়া, কুষ্টিয়ার রফিজুল চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে কুয়ালালামপুরের পিএনবি ১১৮ তলা বিল্ডিয়ের নির্মাণ প্রকল্পের ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ারিং সেকশনে কাজ করছেন। যেখানে বৈধ পারমিট ও সিআইডিবি কার্ড ছাড়া কাজ পাওয়া খুবই মুশকিল। সেখানে এ চারজন বাংলাদেশি কাজ করছেন।

শুধু এ চারজনই নয় বৈধ পারমিটসহ শতশত লাল সবুজ পতাকাবাহী গর্বিত সোনার ছেলেরা বীরদর্পে কাজ করে চলেছেন। হারুন মিয়া বলছেন, এ হাইরাজ বিল্ডিংয়ে কাজ নিতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। কাজ পেয়েছি। হারুন মিয়া বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশি এখানে কাজ করছি কাজের দক্ষতা দেখে কর্তৃপক্ষ খুব খুশি।

তার সাথে সুর মেলালেন কুষ্টিয়ার রফিজুল। বলেন, বিদেশে এসেছি টাকা ইনকাম করতে। শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। রফিজুলের একটাই দুঃখ, আগস্ট মাস থেকে এখানে কাজ করছি। ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়ান, চায়নাসহ আরো কয়েকটি দেশের শ্রমিকরা কাজ করছেন, তাদের দেশের দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকতার্রা প্রতি সপ্তাহে এসে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এতে তাদের কাজের উৎসাহ বাড়ে। শুধু আমরাই অবহেলায় রয়ে গেলাম। আমাদের দূতাবাসের কেউই আমাদের খোজঁ রাখে না। বিদেশে আমরা শ্রমের বিনিময়ে দেশকে অনেক কিছু দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দেশের চালকরা আমাদের লোক দেখানো স্মৃতিচারণে ব্যস্ত।

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com