ফেরত পাঠানো শ্রমিকদের খুঁজছে সিঙ্গাপুর

ওমর ফারুকী শিপন
ওমর ফারুকী শিপন ওমর ফারুকী শিপন , সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

সিঙ্গাপুরে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে নির্মাণ ও মেরিন সেক্টরসহ অনেক কোম্পানি থেকে অভিবাসী শ্রমিকরা চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও চীনের শ্রমিকরাও। মন্দা কাটাতেই কোম্পানিগুলো নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায় তাদের। তবে আগের তুলনায় এখন দেশটির শ্রমবাজার অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে।

১৬ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরের ট্রেড ও ইন্ডাস্ট্রি মন্ত্রী চান চুন সিং এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, এ বছর সিঙ্গাপুরিয়ানদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হবে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আলাদা বাজেট করা হবে। বিভিন্ন দেশে ফেরত পাঠানো অভিজ্ঞ ও দক্ষদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। পুরাতন শ্রমিকদের সিঙ্গাপুরে আনতে কার্যক্রম চলছে।

সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকদের আস্থার জায়গা ক্যাপেল শিপইয়ার্ড। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইদানিং সিঙ্গাপুরের অনেক কোম্পানি শ্রমিক সংকটে ভুগছে। তারা মনে করে নতুন শ্রমিক নিয়োগ মানেই অর্থ সময় নষ্ট। এ কারণে তারা ফেরত পাঠানো অভিজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমিকদের নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে। 

সিঙ্গাপুরের অবকাঠামো খাতই দেশটির অর্থনীতিকে চাঙা করে রেখেছে। আর এজন্য দেশটিকে প্রচুর বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হয়। জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের জুনের এক হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও চীন থেকে ৩ লাখ ৭০০ শ্রমিক দেশটির নির্মাণশিল্পে নিয়োজিত।

জানা গেছে, অনেকের ‘আইপি’ মিনিস্টার অব ম্যানপাওয়ার থেকে রিজেক্ট আসছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগ্রহ থাকলেও সিঙ্গাপুরে আসতে পারছে না। দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয় এই আইপি রিজেক্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী নয়। 

সিঙ্গাপুরের জাতীয় দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস এর মতে, অভিবাসী গৃহকর্মী বাদে সিঙ্গাপুরে সকল কর্মক্ষেত্রেই কর্মী নিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। তবে স্থানীয় শ্রম বাজারে রয়েছে দক্ষ কর্মীর অভাব। পরিবর্তিত অর্থনীতি ও বিশ্বজুড়ে টানাপোড়েনের ফলে গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সব সেক্টরে কর্মী নিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেড়েছে বেকারত্ব। কাজের সুযোগ থাকার পরেও নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবে স্থানীয়রা নতুন চাকরিতে যোগ দিতে সংগ্রাম করছেন। 

দেশটিতে দক্ষতার অভাবে স্থানীয়রাও বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেপ্টেম্বর মাসে ৭৪ হাজার ২০০ রেসিডেন্ট বেকার থাকার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৩ গুন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই বেকারত্বের হার ছিল ২.২ শতাংশ।

স্থানীয়দের বেকারত্ব সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই চলতি বছরে সরকার স্থানীয়দের জন্য আরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। যারা বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আছেন তাদের চাকরি টিকিয়ে রাখতে হলে দক্ষতা অর্জন ও কাজের ধরণ অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার থেকে কোর্স করা জরুরি। সার্টিফিকেট থাকলে সরকার স্থানীয়দের নেয়োগ দিবে। 

সিঙ্গাপুরের জনসম্পদমন্ত্রী জোসেফিন তিও বলেন, কাজ এবং দক্ষতার সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই। নিয়োগকর্তাদের কর্মী নিয়োগে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। অভিবাসী গৃহকর্মী বাদে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ২১ হাজার ৭০০ যা তিনগুন বেশি। পূর্ববর্তী সময়ে ছিল ৬২০০। 

তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো বেশকিছু সেক্টরে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ থাকার পরও উল্লেখযোগ্য বেকার হয়ে হয়ে কাজ খুঁজছে। তিনিও শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্ম খালি থাকার অর্থ হলো কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ততটা শক্তিশালী নয়। 

রিপোর্টে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিবাসী গৃহকর্মী বাদে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৮ হাজার ৬০০ যা গত ৫ বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। নির্মাণ শিল্পে তৃতীয় প্রান্তিকে ৫ হাজার ৪০০ সার্ভিস সেক্টরে ১৫ হাজার ৩০০ রিটেইল ট্রেড সেক্টরে ১২০০ কাজের সৃষ্টি হয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান মোতাবেক চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে তিন লাখ ৪৭ হাজার ২৭ জন শ্রমিক মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, জর্ডান, মরিশাস, কুয়েত, কাতার, ফিজিসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। তার মধ্যে সৌদি আরবে অনেক শ্রমিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে গেছে ১৭ হাজার ৫৩৫ জন। 

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]