লিসবনে বাংলাদেশি দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা ‘ভিত্তিহীন’

মো. রাসেল আহম্মেদ
মো. রাসেল আহম্মেদ মো. রাসেল আহম্মেদ
প্রকাশিত: ১০:৩৯ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে সিলেটের দুই প্রবীণ ব্যবসায়ীর মধ্যে ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক বিরোধের জের ধরে গত শনিবার রাতে সংঘঠিত সংঘর্ষ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।

জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলমান ব্যক্তিগত সমস্যা কথা-কাটাকাটি, হাতাহাতি থেকে শুরু করে সর্বশেষ গত শনিবার রাতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চারজন গুরুতর আহত হয়ে লিসবনের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছে।

চলমান এই সমস্যাকে অনেকেই ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কোনো কোনো মিডিয়ায় বাংলাদেশিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার কারণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় হিসেবে প্রকাশ করছেন যা একেবারে ভিত্তিহীন। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষ একান্ত ব্যক্তিগত বলে অভিমত দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও লিসবনে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা।

এই ঘটনাকে লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য একটা অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন পর্তুগালের বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষটি ধর্মীয় কারণে হয়েছে প্রমাণিত হলে স্থানীয় প্রশাসন লিসবনে মুসলিম বাংলাদেশিরা স্বাধীনভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পালনে বাধাগ্রস্ত হবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন।

লিসবনের বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, পর্তুগাল মূল ধারার রাজনীতিক ও লিসবন সিটি কাউন্সিলর রানা তাসলিম উদ্দিন প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ঘটনাটি রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করতে সুযোগ দেয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, গতকাল থেকে যে গুজব উঠেছে আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই ব্যক্তি এখনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিস্তারিত জানিয়েছেন বলে অবহিত করেছেন এবং পুলিশ প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

এই ঘটনার পর থেকে লিসবনে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন ও দুঃচিন্তার মধ্যে আছেন। সংঘাতের ফলে পর্তুগাল সরকার ও স্থানীয় মানুষজনের কাছে বাংলাদেশ কমিউনিটির সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]