আটকের ভয়ে করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে না মালয়েশিয়া প্রবাসীরা

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ৩০ মে ২০২০

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ না দিতে আহ্বান জানিয়েছে এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (এমইএফ)। পাশাপাশি কোভিড -১৯ এর বিস্তার রোধে অবৈধদের আত্মসমর্পণ করার প্রতি জোর দিয়েছে সংগঠনটি। কিন্তু আটকের ভয়ে করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে না প্রবাসী শ্রমিকেরা।

২৮ মে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বার্নামায় দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক দাতুক শামসুদ্দীন বরদন বলেন, সরকারের উচিত অবৈধ শ্রমিকদের বিচারের পরিবর্তে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে তাদের নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা। কারণ বিচার প্রক্রিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তনে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। এমনকি তাদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখতে হয় এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রচুর টাকা খরচ হয়।

বর্তমানে অবৈধ অভিবাসীকে আটক কেন্দ্রে রাখার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭০ রিঙ্গিত খরচ হয়। এ টাকা খরচ না করে দ্রুত তাদের নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি সরকারের নজরদারী বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এমইএফের নির্বাহী বলেন, বৈধ বিদেশিকর্মীরা তাদের মালিকদের দ্বারা প্রদত্ত মেডিকেল বীমার আওতায় রয়েছে। কোনও শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে বা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার হলে বীমার গুরুত্ব দেখা দেয়।

বিদেশি শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করার বিষয়ে তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার উন্নতি করতে পারেন।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, নিয়োগকর্তা সকল বিদেশি কর্মীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কিছু নিয়োগকর্তা মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডারের কারণে মারাত্মক আর্থিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সময়কালে নিয়োগকর্তাদের বোঝা কমিয়ে আনতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে বলছেন এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক দাতুক শামসুদ্দীন বরদন।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিধি নিষেধে সবচেয়ে সংকটে পড়েছেন অবৈধরা। কারণ বেশির ভাগ অবৈধ শ্রমিক বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মার্কেটে কাজ করতেন। এরই মধ্যে চলছে ধরপাকড়। গ্রেফতার আতঙ্কে ও আর্থিক দুরবস্থায় কর্মহীন দিন কাটছে তাদের।

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭৮ ভাগ অভিবাসী কর্মী করোনায় আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষণা দিয়েছে বৈধ-অবৈধ সব অভিবাসিকে বাধ্যতামূলক কভিড-১৯ পরীক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে অবৈধদের গ্রেফতারে চালানো হচ্ছে অভিযান।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মার্সি মালয়েশিয়ার সভাপতি দাতুক ডা. আহমদ ফয়জাল পারদৌস সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, অনিবন্ধিত প্রবাসী শ্রমিকরা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে এগিয়ে আসার সম্ভাবনা কম। এর কারণ এটি নয় যে তারা পরীক্ষা করতে চান না, তারা আটক হওয়ার ভয়ে রয়েছেন।

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]