স্বাস্থ্যবিধি মেনে কানাডায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

আশ্বিন মাসে এক আনন্দের বার্তা বয়ে আসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে। এবার দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে একমাস পর অর্থাৎ আগামী ২১ অক্টোবর থেকে। এদিন দেবীর `বোধন’।

বরফাচ্ছন্ন কানাডার ক্যালগেরিতে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে আগামী ২১ শে অক্টোবর থেকে।

কিন্তু এবারের আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা করোনাকালে শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সব আয়োজন। বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের ইচ্ছা থাকলেও এবার পূজায় আসতে পারবে না। তাদের জন্য ভার্চুয়ালি অঞ্জলির ব্যবস্থা থাকবে সব আয়োজনে।

এবার দুর্গাপূজায় স্বাস্থ্যবিধি ও গাইডলাইন পূর্ণার্থীদের মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা ও নির্দিষ্ট থাকবে।

এছাড়াও পূজামণ্ডপে আসা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট দূরত্ব (কমপক্ষে দুই মিটার) বজায় রেখে লাইন ধরে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করতে হবে এবং প্রণাম শেষে বের হয়ে যেতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং ভক্তের সংখ্যা অধিক হলে একাধিকবার পুষ্পাঞ্জলির ব্যবস্থা করতে হবে। পূজামণ্ডপে আসা সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

মাস্ক না পরে আসলে কাউকে পূজামণ্ডপে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। এছাড়াও মন্দিরের প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা নিশ্চিত থাকবে।

গত বছরের মতো এবারও আলোক উজ্জ্বল আর সুক্ষ ছোঁয়ায় সাজানো হবে না পূজামণ্ডপ। নানা মাত্রিক আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শারদীয় উৎসবে চলবে দেবী দুর্গার আরাধনা। তবে একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে পূজামণ্ডপে নেয়া হবে সতর্কতা। গত বছরের সেই মিলনমেলা হবে ভার্চুয়ালি।

ক্যালগেরির ‘আমরা সবাই’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রুপক দত্ত বলেন, আসছে শুভদিনে মায়ের আশীর্বাদে দেশে ও বিশ্বের মধ্যে শান্তি বিরাজ করবে। আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। করোনাসহ সকল পাপ ও পঙ্কিলতা দূর হয়ে মানুষের মধ্যে শান্তি ফিরে আসবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ক্যালগেরি বঙ্গীয় পরিষদের সাবেক সভাপতি, রিয়েল এস্টেট ব্যাবসায়ী কিরণ বণিক শংকর বলেন ‘কেলগেরি বঙ্গীয় পরিষদ’ এই শহরে সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ পূজোর আয়োজন করে আসছে কিন্তু এই সংকটময় বিশ্বে পূজোর মতোই পূজা করা হবে।

তিনি বলেন ‘উৎসবের নামে সুইসাইড’ করার কোনো অর্থ নেই। পূজোর আয়োজকরা আশা করছে এই ধরনের অবিবেচক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকবেন। বিশ্ব জননী তিনি সংকট নাশিনী, তিনিই সকল সংকট নাশ করে আবারও ধরাতে স্বাভাবিক জীবন ও পূজোর পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন। সবার প্রতি পুজোর আগাম শুভেচ্ছা।

বাংলাদেশ পূজা পরিষদ অব ক্যালগেরির এক্সকিউিটভি কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সুব্রত বৈরাগী বলেন, দুর্গতি বিনাশ করার জন্য তার আবির্ভাব। তাই দেবির নামকরণ ‘র্দুগা’। এ বছর আমরা সবাই মিস করব গতবারের মিলনমেলাকে। তবে আমরা বিশ্বাস করি দেবী সর্বত্র আছেন, মঙ্গলের বার্তা দিয়ে তিনি পৃথিবীকে শান্তিময় করে তুলবেন।

দেশের মাটিতে পা রাখতে না পারলেও কানাডার সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রবাসী বাঙালিরা দুর্গাপূজাকে ঘিরে মেতে উঠেবেন আনন্দ উৎসবে। দেবীর পায়ে অঞ্জলি আর দর্শনের পাশাপাশি বিশ্ববাসীর সুখ ও শান্তি কামনা করে করবেন প্রার্থনা।

উল্লেখ্য, এ বছর নব প্রজন্মের কাছে আবহমান বাংলার কৃষ্টি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় স্বত্ত্বাকে তুলে ধরতে অনেকেই উদযাপন করবেন ভার্চুয়াল পূজা।

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]