কানাডার উইনিপেগে উত্তর আমেরিকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০

হেলাল মহিউদ্দীন

কানাডার উইনিপেগে ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। ম্যানিটবা প্রদেশের রাজধানী উইনিপেগে উত্তর আমেরিকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনারটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করা যায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান এই শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

উইনিপেগের কার্কব্রিজ পার্কের একটি স্থান এই শহীদ মিনারের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে। সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কয়েক বছরের আন্তরিক নিরলস প্রচেষ্টার ফসল এই শহীদ মিনারটি। ম্যানিটোবার প্রাদেশিক সরকার, উইনিপেগের নগর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির সিংহভাগ ব্যয় বহন করছে। রয়েছে বাংলাদেশিদের অর্থসাহায্যও।

উদ্যোক্তা সংগঠন ম্যানিটোবা বাংলাদেশ ভবন কর্পোরেশন গত কয়েক বছরে একাধিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উইনিপেগের বাংলাদেশিদের মধ্যে থেকে বাজেটের একটি অংশের সংস্থান করে। চত্বরটির নির্মাণ ব্যয় বাংলাদেশি মুদ্রার অংকে ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

শীতসহিষ্ণু ও পরিবাশবান্ধব রাখার জন্য গ্যাল্ভানাইজড স্টিলে মূল মিনারগুলো নির্মিত হবে। বেদি ও চারপাশের এলাকায় থাকবে কংক্রিট ও পাথরের নান্দনিক মিশ্রণ। সবুজ শীতসহিষ্ণু গুল্ম আচ্ছাদিত থাকবে চত্বর সীমানা। কানাডার আদিবাসী ভাষা-চিহ্নের স্মারক প্রস্তরের গাথুনিও থাকবে মূল বেদিতে।

উইনিপেগ শহরটি নানা কারণে বিশেষত্বপূর্ণ। শহরটি কানাডার তিনটি প্রেইরি প্রদেশের মধ্যে সবচাইতে বড় সমতলভূমি। তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে শহরটি উত্তর আমেরিকার ‘জিরো পয়েন্ট’। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে একটি বৃত্ত আঁকলে কেন্দ্রবিন্দুটিই উইনিপেগ। শহরটির আরও বিশেষত্ব এই যে পৃথিবীর একমাত্র মানবাধিকার যাদুঘরটিও উইনিপেগেই। যাদুঘরটির কারণে ম্যানিটবার মানবাধিকার কর্মীরা উইনিপেগকে ‘জেনেভা অব হিউম্যান রাইটস’ বা ‘মানবাধিকারের জেনেভা’ নামেও উল্লেখ করতে শুরু করেছেন।

সেখানে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা চত্বরটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি এলাকাটিকে একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।

এনএফ/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]