ডিএএডি ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী দেলোয়ার

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি কানাডা
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০

প্রবাসী বাঙালি বিজ্ঞানী ড. দেলোয়ার হোসাইন জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস (ডিএএডি) ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বছর দু’বার বিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং গবেষক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

ডিএএডি ফেলোশিপ হলো জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সরকারি-বেসরকারি, আঞ্চলিক এবং স্ব-পরিচালিত অর্থায়িত জাতীয় সংস্থা।

৩৬৫টি জার্মান উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (১০০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়, ১৬২টি ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, ও ৫২টি সংগীত এবং শিল্প কলেজ) কে উপস্থাপন করে।

এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৫ সালে। যার সদর দফতর জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অবস্থিত। শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের আন্তর্জাতিক বিনিময়ের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম তহবিল সংস্থা।

২০২০ সালে এবারই প্রথম তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে সিলেকশন দেন। জার্মানিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পোস্ট ডক্টরাল নেটওয়ার্কিং ট্যুরের জন্য।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৮৯টি আবেদনের বিপরীতে ২০ জনকে এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়। কানাডা থেকে সর্বমোট ২ জন প্রতিযোগী এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হন।

আর সেই বাছাইয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগরি থেকে ড. দেলোয়ার হোসাইন ডিএএডি ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এই ফেলোশিপের অধীনে স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়, টিবিঞ্জেন বিশ্ববিদ্যালয়, অগসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মিউনিখ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিমেন্স এজি, বোশ সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ভ্যালি, ম্যাক্স-প্ল্যাঙ্কইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম, সাইবার ভ্যালি, জার্মান এরোস্পেস সেন্টার, মিউনিখ সেন্টার ফর মেশিন লার্নিং এবং হেলমহল্টজেন্ট্রাম মেনচেনের মতো বিখ্যাত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গবেষণাগারে ভ্রমণ করবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশি ড. বিজ্ঞানী দেলোয়ার হোসাইন বর্তমানে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরিতে ড. শন ডুকলো ও ড. টাইলার ক্লাফের অধীনে পোস্ট ডক্টরেট ফেলো হিসেবে কর্মরত।

তিনি মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং টেকনিক ব্যবহার করে রোবোটিক স্ট্রোক রিহ্যাবিলিটেশন ডেটা বিশ্লেষণ এবং কানাডার যুবকদের সেন্সরিমোটর নিয়ন্ত্রণ ও অভিযোজিতকরণের রোবোটিক মূল্যায়ন: একটি মেশিন লার্নিং পদ্ধতি; এই দুইটি প্রজেক্টের গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

বাংলাদেশের গর্ব মেধাবী এই কৃতি সন্তানের জন্ম রাজবাড়ীর পাংশা থানার সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে। তিনি হাজী আশরাফ হোসাইন ও হাজী মাহমুদা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। তার বাবা পুইজোর ডিগ্রি মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন।

তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে ২০০৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (রাবি) বিভাগে। বরাবরের মতো প্রথমস্থান অধিকার করে তিনি ২০১০ সালে স্নাতক এবং ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

তিনি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছর শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের তয়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও মেশিন লার্নিংয়ের ওপর পিএইচডি করতে।

২০১৮ সালে মার্চে পিএইচডি শেষে তিনি জাপানের হসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক ও টোকিয়ো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠিত ফিয়ারি ডিভাইস কোম্পানিতে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ড. দেলোয়ার হোসাইন স্ত্রী ও এক কন্যাসহ ক্যালগেরিতে বসবাস করেন। মেধাবী, বিনয়ী, নম্রভদ্র এই বিজ্ঞানী ও গবেষক জাগো নিউজকে বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি হিসেবে এই ফেলোশিপে নির্বাচিত হয়ে গর্ববোধ করছি। বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। লাল-সবুজের বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]