তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তার স্ট্যাটাসে মানবিক হাইকমিশনারকে মূল্যায়ন

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

পাভেল সারওয়ার একজন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা। দীর্ঘদিন থেকে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করে চলেছেন স্ব-মহিমায়। ২৩ অক্টোবর তার এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে মানবিক হাইকমিশনারকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘বিদেশের মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের হাইকমিশন।’

‘আর মিশনের হাইকমিশনার হচ্ছেন আমাদের অভিভাবক। মালয়েশিয়ায় আমরা প্রবাসীরা পেয়েছিলাম মহ. শহীদুল ইসলাম স্যারের মতো একজন মানবিক হাইকমিশনার।’

তিনি লিখেছেন, স্যারের সঙ্গে দেখা করতে হাইকমিশনে গিয়েছিলাম। ২৩ অক্টোবর স্যারের সম্ভবত শেষ কর্যাদিবস ছিল মালয়েশিয়ায়। যতবার স্যারে কাছে গেছে ততবারই দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কিছু করার অনুপ্রেরণা নিয়ে এসেছি। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া আর অনুপ্রেরণা দিয়ে দিলেন। স্যার আমাদের রেখে চলে যাচ্ছেন। এটা ভেবেই আমার চোখ বারবার ভিজে যাচ্ছে।’

jagonews24

‘স্যারের সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ হয় হাইকমিশনের ওয়েব সাইট নির্মাণের সূত্র ধরে। দেখা না হলে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিয়ে অন্য প্রবাসীদের মতো হয়ত আমারও অনেক ভুল ধারণা থেকে যেত। স্যার যেমন একজন প্রাজ্ঞ ডিপ্লোমেট ঠিক তেমনি স্যার আইটিতেও এত ভালো জ্ঞান রাখেন তা আমার ধারণাই ছিল না।’

‘স্যার সারাক্ষণ বলতেন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হাইকমিশনের সেবাকে আরও কীভাবে সহজ ও গতিশীল করা যায়। করোনার লকডাউনে আমি দেশে ছিলাম, স্যার আমাকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দিয়ে নির্দেশ দিলেন পাসপোর্ট রি-ইস্যুর এপয়েন্টমেন্ট কীভাবে আরও সহজ করা যায় তার জন্য একটা অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম তৈরি করতে। তিনি এত সুন্দরভাবে আমাদের বিষয়টা বুঝিয়ে দিলেন যে, কাজটা করা আমাদের জন্য সহজ হয়ে গেল।’

jagonews24

‘আমি গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান করে মালয়েশিয়া ফিরে স্যারের সাথে যখন দেখা করতে গেলাম তখন আমার শরীর ভালো ছিল না। ডাক্তার আমার কিডনি অপারেশন করার পরামর্শ দিলেন। আমি কিডনি এই ব্যথায় স্যারের কক্ষে বসতে পারছিলাম না, তাই বারবার দাঁড়াতে হচ্ছিল। স্যার বিষয়টা খেয়াল করলেন, স্যারও দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন তোমার ব্যথাটাতো নিতে পারব না, তাই তোমার সঙ্গে আমিও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। স্যারের মানবিক ব্যবহার দেখে আমার চোখে পানি চলে এসেছিল সেদিন।’

স্যারে কাছে যতবার গিয়েছি সব সময় প্রবাসে কীভাবে আমাদের লাল সবুজের পতকাকে সম্মানের সঙ্গে আরও উপরে তুলে ধরা যায় তা নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতেন।

jagonews24

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা গর্বিত ও ধন্য আপনার মতো একজন হাইকমিশনার পেয়েছিলাম। স্যার আপনি আমার মতো লাখো প্রাবসীর মাঝে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করুন।’

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]