মার্কিন নির্বাচন : কে কোন দিকে এগিয়ে?

তোফাজ্জল লিটন
তোফাজ্জল লিটন তোফাজ্জল লিটন
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প এবং বাইডেন দুইজন ছুটছেন এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে। কারও যেন নাওয়া-খাওয়া নেই। তারা জনগণকে আশ্বস্ত এবং বিরোধীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

নানা জরিপে বাইডেনকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও সেই ব্যবধান গড়ে দুই থেকে চার শতাংশ। তাই এবারের নির্বাচনের স্মরণকালের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

ট্রাম্প বাইডেনকে উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আপনি যখন প্রেসিডেন্ট হবেন। তখন, একদিনও ছুটি নিতে পারবেন না। আপনাকে কাজ করতে হবে। আমিও কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, দেশের জন্য যা করেছি তা সবাই মনে রেখে আমাকে আবার বিজয়ী করবে।’

বাইডেন বলেছেন, আমি কোনো দলের প্রেসিডেন্ট নয় পুরো জাতীর প্রেসিডেন্ট হতে চাই। আমি একজন গর্বিত ডেমোক্র্যাট হিসেবে কাজ চালাচ্ছি। আমি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শাসন করব। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান সবার সঙ্গে কাজ করব। যারা আমাকে সমর্থন করেন না তাদের পক্ষেও কঠোর পরিশ্রম করব।’

সিবিএস নিউজের সংবাদকর্মী বো এরিকসন জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন মঙ্গলবার ওয়ার্ম স্প্রিংস, জর্জিয়া এবং আটলান্টায় যাত্রা করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পশ্চিমে রেনো, নেভাদা এবং লাস ভেগাসে।

আজ বাইডন ব্রোভার্ড কাউন্টি, ফ্লোরিডা এবং ট্যাম্পায় প্রচার চালাবেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও মঙ্গলবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে প্রচারণা চালিয়েছেন বাইডেনের পক্ষে। তিনি গত সপ্তাহে পেনসিলভেনিয়ায় একটি ড্রাইভ-ইন সমাবেশের মাধ্যমে বাইডেনের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে প্রচার শুরু করেছিলেন।

দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ল্যানসিং, মিশিগান; ওয়েস্ট সেলাম, উইসকনসিন; ওমাহা, নেব্রাস্কা শহরে প্রচারণা চালিয়েছেন।

আজ যাবেন অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে। এর পরে লাফলিন, নেভাদা এবং ফিনিক্স। ট্রাম্প নির্বাচনের দিন দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন, ডিসিতে থাকবেন।

সিবিএস নিউজের পোলিংয়ে দেখা গেছে, বাইডেন নেভাদায় ৫৩ শতাংশ থেকে ৪৪ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন। জর্জিয়ার দুই দলের সমান জনপ্রিয়তা। তবে ১৯৯২ সাল থেকে এখানে কখনও ডেমোক্র্যাট জিততে পারেনি। হিলারি ক্লিনটন নেভাদাকে প্রায় দুই পয়েন্টে জিতেছিলেন তবে জর্জিয়া হেরে গেছেন।

তরুণ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী বাহার খন্দকার সবুজ বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা গরিবদেরকে গরিব করে রাখার পক্ষে করে। খাবার চিকিৎসা এবং নানা ভাতা দিয়ে মানুষকে পরনির্ভর করে রাখে। আমাদের টাকা আমাদেরই দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ তা পছন্দ করে।

তবে আমি মনে করি রিপাবলিকানরা দেশের মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন করে। তারা বিশ্বব্যাপী ব্যবসার প্রসার ঘটায়। নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। করোনা মহামারির সময়ে আরেকজন নতুন প্রেসিডেন্ট এসে খুব ভালো কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

অধ্যাপক নাদের আলী বলেন, ট্রাম্প দেশটিকে দিনকে দিন অধপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অভিবাসনের এই দেশকে তিনি শেতাঙ্গের দেশ বানাতে চান। সাম্প্রদায়ীকতাকে পুঁজি করে যে স্বপ্ন দেখছেন তা কোনদিন বাস্তবায়িত হবে না। এ দেশের মানুষ বোকা না। তারা বাইডেনের মতো যোগ্য মানুষকে রেখে হাস্যকর ট্রাম্পকে ভোট দেবে না।

এমআরএম/পিআর

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]