চীনে বিজয় দিবস উদযাপন

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৯ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চীনের বেইজিংয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসে ৪৯তম বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। জাতীয় সংগীত উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন রাষ্ট্রদূত মাহবুবুজ্জামান।

বুধবার দিনব্যাপী কর্মসূচি বেইজিংয়ের দূতাবাস প্রঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা থেকে জুম-লিংকের মাধ্যমে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় যোগ দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম পর্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৩০ লাখ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং দুলক্ষ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের স্মূতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছিল।

জাতির পিতা ও তার পরিবার, মুক্তিযোদ্ধে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য দোয়া পরিচালনা করা হয়। আয়োজন করা হয়ে ছিল আলোচন সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

jagonews24

ওয়েবিনার আলোচনায় রাষ্ট্রদূত মাহবুবুজ্জামান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার সুদূর প্রসারী নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ কে ২০১২ সালের মধ্যে একটি প্রগতিশীল মধ্যমমানের দেশ হিসেবে উন্নতি করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি তার নেতৃত্বে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে এবং ২০৪৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশেকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে রাপান্তর করার জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে বিজয় দিবসের অভিনন্দন জানিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার অভ্যুদয়ে বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

jagonews24

তিনি বলেন, চীনের জনগণও বাংলাদেশের মত দীর্ঘ আত্মত্যাগ এবং পরম সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং দ্রুত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করছে। তিনি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ‘চিত্তাকর্ষক’ আখ্যায়িত করেছেন এবং আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন যে আগামী দিনে তা আরা শক্তিশালী হবে।

তিনি আরো বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা পরিসর বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকবে। রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বিশ্বমহামারী মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং মত দেন, মহামারি রোধে বাংলাদেশ সর্বদা সফল ও ইতিবাচক।

ডেপুটি চিফ অব মিশন মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয়েছিল। এই পর্বে সবচেয়ে আকর্ষণ ছিল দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাচ্চারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের আত্মা ও চেতনায় সমবেত সংগীত এবং নৃত্যে পরিবেশন করা হয়েছিল।

jagonews24

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়েছিল। রাষ্ট্রদূত মাহবুবুজ্জামান দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে অবস্থিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ডিফেন্স এটার্চি মাহবুব উল আলম তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও চীন সম্পর্কের আলোকে এই দিনের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দেন প্রবাসী বাংলাদেশি শামসুল হক।

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্য, বেইজিংয়ে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী, চীনা সংবাদকর্মী ও চীনা অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]