‘ঠাণ্ডায় আমরা যে কোনো সময় মারা যেতে পারি’

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

‘অনেকেরই এখানে উষ্ণ কাপড় নেই। জুতা নেই। ঠাণ্ডায় আমরা যে কোনো সময় মারা যেতে পারি। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। মোটেই নিরাপদ নই। মানুষ সাহায্য করার পরিবর্তে আমাদের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সাহায্য দরকার।’

হৃদয়বিদারক কথাগুলো বলছিলেন ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী এক বাংলাদেশি। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকেই ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের। কিন্তু পুলিশের বাধার মুখে ফেরত আসেন বেশির ভাগই।’

সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। বতর্মানে তারা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন, তীব্র শীতে তাদের পক্ষে সেখানে টিকে থাকা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় এনজিও ‘নো নেম কিচেনের’ হয়ে কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবী আলবা ডোমিঙ্গুয়েজ পেনা বলকান ইনসাইটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অতীতে ভেলিকার ক্লাদুসার বাংলাদেশিদের শরণার্থী শিবিরে ১০০ জনের মতো বসবাস করতেন। কিন্তু বুধবারের তুষারপাতের পর সেখান থেকে অনেক শরণার্থী অন্যত্র চলে গিয়েছেন।

বতর্মানে তারা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন, তীব্র শীতে তাদের পক্ষে সেখানে টিকে থাকা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পূর্বে তাদের অনেকে একটি পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তারা যেখানে অবস্থান করছেন সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি এ ফ্যাক্টরির তুলনায় অনেক বেশি শোচনীয় বলে তিনি তার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

তীব্র তুষারপাতে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে বসনিয়া সীমান্ত আটকেপড়া বাংলাদেশিসহ কয়েকশ’ অভিবাসনপ্রত্যাশী। রয়েছে খাদ্য সংকটও। এ অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

একে তো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই তার ওপর তীব্র ঠাণ্ডা। তুষারপাতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বসনিয়ায় আটকেপড়া এসব শরণার্থীরা। অস্থায়ী আশ্রয় শিবির যাও ছিল তাও গত মাসে আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে ও অস্থায়ী পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় হয়েছে তাদের।

উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের দেশে পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে এসব শরণার্থী স্বপ্ন দেখলেও এখন জীবন বাঁচাতেই হিমশিম খাচ্ছে। প্রবল ঠাণ্ডার সঙ্গে যুদ্ধ তো আছেই সেই সঙ্গে খাদ্য সঙ্কট।

ইউরোপে গমনপ্রত্যাশী অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বসনিয়ার সীমান্তবর্তী শিবিরে আটকা পড়ে আছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ এক বছর ধরে অপেক্ষা করছেন সীমান্তবর্তী ক্রোয়েশিয়া পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার।

জরুরি ভিত্তিতে শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তা নাতাশা ওমারোভিক বলেন, ‘অনেক শরণার্থী তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

ভেলিকা ক্লাদুসায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে এসেছেন। পাড়ি দিয়েছেন দুর্গম পথ।

সেখানে অবস্থানরতরা জানান, তারা দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা খরচ করে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। ‘১৮ থেকে ২০ লাখ খরচ করে এখানে এসেছি। বিভিন্ন দেশে দালালদেরকে এ টাকা দিতে হয়েছে আমাদের। এ মুহূর্তে দেশে গেলে নিঃস্ব হয়ে যাব আমরা।’

সরকার সহযোগিতা করলে দেশে ফেরত যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, তাদের স্বপ্ন ইতালি, স্পেন যাওয়ার। কোনভাবেই তারা এ স্বপ্ন ত্যাগ করবেন না।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]