বুলগেরিয়ায় কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা

রাকিব হাসান রাফি
রাকিব হাসান রাফি রাকিব হাসান রাফি , স্লোভেনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ইউরোপে আসার পর অনেক জায়গায় আমি দেখেছি যে ভারত এবং পাকিস্তান এ দুই দেশের মানুষজনকে একে-অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে। দেখেছি এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতেও। হাঙ্গেরিয়ান আর রোমানিয়ানদের মাঝে সামাজিক বন্ধন খুব বেশি সুদৃঢ় হয়ও না সহজে।

বুলগেরিয়াতে পা রাখার পর সেখানকার তিক্ত কিছু অভিজ্ঞতা এবং একই সঙ্গে যেহেতু আগেই অনেকের থেকে রোমানিয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক কথা শুনেছিলাম এজন্য রোমানিয়া সম্পর্কে আমার তেমন কোনও ইতিবাচক ধারণা ছিল না সব কিছু মিলিয়ে এটা বলা-বাহুল্য।

৪ এপ্রিল রাতে আমি রওয়ানা হই বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া থেকে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের উদ্দেশ্যে। বুলগেরিয়ার হাইওয়ে রাস্তাগুলো খুবই উন্নত এবং আধুনিক। দেখে মনে হয় যেনও নতুন করে রাস্তাগুলো ঢালাই করা। অন্ততঃ যে কয়েকটি রুটে আমি যাতায়াত করেছি সে কয়েকটি রুটের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

কিন্তু রোমানিয়ায় প্রবেশ করার পর দেখলাম হাইওয়ের রাস্তাগুলো কিছুটা অমসৃণ আর পুরোনো। মাঝে-মধ্যে বাংলাদেশের মতো ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে ভয় লাগা শুরু; না জানি কোথায় এসে পৌঁছালাম।

তবে বুলগেরিয়া আর রোমানিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকার চেকপোস্টের সময় একটা মজার কাহিনি ঘটেছিল। একজন বর্ডার পুলিশ আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন; অনেকক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

মনে হলো তিনি বোধ হয় কখনও কালো চামড়ার বাইরের কোনও মানুষকে দেখেননি। আমি তাকে আমার পাসপোর্ট আর স্লোভেনিয়ার রেসিডেন্ট পারমিট বের করে দিলাম কিন্তু তারপরেও আমার ওপর থেকে তার দৃষ্টি বিন্দুমাত্রও সরলো না।

কিছুক্ষণ পর তিনি চলে গেলেন। অতঃপর আরও কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর একজন পুলিশ অফিসার এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘Do you speak English?’ আমি বললাম ‘Of course, I can speak English.’ তিনি আমাকে এরপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘Where are you from? And what do you do in Hungary?’

বললাম, ‘I am from Bangladesh and I study in Slovenia. I have come to Slovenia for completing my Bachelor of Science in Physics. And I am spending three months’ তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘What are you going to do in Romania?’

jagonews24

উত্তর দিলাম ‘I am travelling to Romania as a tourist. I am curious to learn about Romania and her culture, society and people’ এ কথা শুনে তিনি আমাকে বললেন, ‘I wish you a very pleasant time in Romania. Once you are here; you will never think to go back to any other country apart from Romania.

Our society and culture will greatly make an impression on you and you will always think to come back to our country again and again. We may not be solvent economically like other European Nations but we have greater heart than most of the other nations.

Welcome to Romania! And do not forget to finish your studies successfully. Study well and go back to your countries. For the prosperity and the development of your country, your country is looking for a youth like you.’

পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা খানিক সময়ের জন্য আমার মনে আশার সঞ্চার করছিল। বুখারেস্টের মিলিটারি অটোগারা স্টেশনে এসে আমাদের বাস থামে। বর্ডার থেকে বুখারেস্ট পৌঁছাতে তেমন একটা সময় লাগেনি বরং নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগে আমরা বুখারেস্টে পৌঁছে যাই।

ঘড়ির কাঁটায় তখন ভোর সাড়ে চারটা; এক বয়স্ক লোক এসে জিজ্ঞেস করে আমার ট্যাক্সি লাগবে কিনা! আমি বললাম আমার ট্যাক্সির প্রয়োজন নেই; শুধুমাত্র বিশ্রাম নেয়ার জন্য একটু জায়গা প্রয়োজন। তিনি আমাকে তখন ছোট একটা জায়গা দেখিয়ে দিলেন বিশ্রাম নেয়ার জন্য।

আমি একটু ভয়ের মধ্যে ছিলাম কারণ জায়গাটি ছিল বুখারেস্ট শহরের সেন্ট্রাল বাস টার্মিনালের হাব। স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখি মূল দরজা তালাবদ্ধ। বেলজিয়াম, জার্মানি, ডেনমার্ক কিংবা নরওয়ের কয়েকটি শহর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছিলাম এ সকল শহরে রাতে স্টেশনের ভেতরের রুম বন্ধ করার সময়।

আগের পর্ব পড়ুন

চলবে...

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]