লিসবনের জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রো রেলের আদ্যোপান্ত

মো. রাসেল আহম্মেদ
মো. রাসেল আহম্মেদ মো. রাসেল আহম্মেদ
প্রকাশিত: ০৫:১২ পিএম, ১১ মার্চ ২০২১

দুনিয়ায় সব বড় বড় শহরের ন্যায় পর্তুগালের রাজধানী শহর লিসবনের গণপরিবহন মেট্রো রেল নির্ভর যার অধিকাংশটায় মাটির নিচ দিয়ে চলাচল করে। লিসবন অনেকের কাছে সাগর কন্যা শহর হিসেবে পরিচিত হলেও তার আরো একটি পরিচয় রয়েছে যা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না।

যেমন এই শহরকে অনেকে সাত পাহাড়ের শহর হিসেবে ও চেনে। কারণ লিসবন ছোট বড় সাতটি পাহাড় নিয়ে আটলান্টিক পাড়ে গড়া উঠা এক অপরূপ মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক শহর।

jagonews24

এই শহরের মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে সর্বপ্রথম ১৯৫৯ সালে মেট্রো রেল সেবা শুরু হয়েছিল। তখন মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পথে যা বাইশা থেকে জারদীম জুলোজিকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

বর্তমানে চারটি লাইনে ভাগ হয়ে এখন তা ৪৬ কিলোমিটার হয়েছে এবং ৫৫টি স্টেশন রয়েছে সমগ্র শহরজুড়ে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত ১টা পর্যন্ত চলে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা যা প্রতি ৪-১২ মিনিট পর পর স্টেশন ছেড়ে যায় একেকটি মেট্রো রেল।

যদিও লিসবনের মেট্রোকে দুইটি জোন বা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে তবে বেশিরভাগ স্থাপনা, দর্শনীয় স্থান এবং এয়ারপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু জোন এক এর মধ্যে পড়েছে। নীল, হলুদ, সবুজ এবং লাল এই চার রঙের ও নামের মেট্রো রয়েছে লিসবনে যার একক একটি ভ্রমন টিকিটের মূল্য দেড় ইউরো।

jagonews24

তাছাড়া ৬ ইউরো ৪০ সেন্টে ২৪ ঘণ্টার টিকিট সংগ্রহ করা যায় যা দিয়ে অসংখ্য বার ভ্রমণ করা যায় লিসবনের সকল মেট্রো, বাস এবং ট্রামে।

লিসবনের মেট্রো পরিষেবা শহরের পূর্বে ও উত্তরে বিস্তৃত এবং পশ্চিমে এর পরিষেবা নেই। যেমন যদি কেউ বেলেম যেতে হয় তাহলে ট্রাম হলো তার বিকল্প। প্রত্যেক যাত্রীতে একটি ভিভা ভিয়াজেই টিকিট সংগ্রহ করতে হয় যা ৫০ সেন্ট খরচ পড়ে।

পরবর্তীতে একক অথবা ২৪ ঘণ্টার টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট পরিমাপ টাকা রিচার্জ করা যায় এই কার্ডে। এই কার্ডটি আবার লিসবনের সকল গণপরিবহনে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী শহর কাসকাইস বা সিন্ত্রার ট্রেন ভ্রমণেও এটি ব্যবহার করা যায়।

jagonews24

সাধারণ একক টিকিটের চেয়ে ৩ ইউরো থেকে ৪০ ইউরো রিচার্জে খরচ একটু কম পড়ে। যেমন একক একটি টিকিটের মূল্য ১.৫ ইউরো কিন্তু কার্ডে রিচার্জ থাকলে তা প্রতিবার ব্যবহারে ১.৪ ইউরো কাটবে।

তাছাড়া ট্রাম ভ্রমণে ২.৮৫ এর পরিবর্তে ১.২৫ ইউরো চার্জ করে। টিকিট কাউন্টার বা সরাসরি অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিনের সাহায্যে টিকিট অথবা নির্দিষ্ট পরিমাপ ইউরো রিচার্জ করা যায়। তাছাড়া রয়েছে সাপ্তাহিক এবং মাসিক ভিত্তিক রিচার্জ যা নিয়মিত চলাচলের জন্য অনেক সুবিধাজনক।

চারটি মেট্রো লাইন (নীল, হলুদ, লাল ও সবুজ) শহরটিকে অনেক ছোট করছে তার বাসিন্দা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকদের কাছে। নিমিষেই শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলা যায় কোনো ধরনের ট্রাফিক ছাড়া।

নীল লাইন যার পুরোটাই মাটির নিচ দিয়ে চলাচল করে। এই মেট্রো লাইন সান্তা পলোনিয়া থেকে রিভোলেইরা পর্যন্ত বিস্তৃত যা পথিমধ্যে লাল লাইন সাও সিবাসতিও, হলুদ লাইন মারকেস পম্বল ও সবুজ লাইনে বাইশা সিয়াদো অতিক্রম করে।

হলুদ লাইনটি রাটো থেকে ওডিভেলাস পর্যন্ত বিস্তৃত যা মারকেস পম্বলে নীল লাইন, সালদানাতে লাল লাইন এবং কাম্পো গ্রান্দেতে সবুজ লাইন অতিক্রম করে। এরপরে লাল লাইনটি যা ওরিয়েন্ট লাইন হিসেবেও পরিচিত তা সাও সিবাস্টিও থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিস্তৃত।

মাঝখানে সালদানাতে হলুদ লাইন এবং আলামিদাতে সবুজ লাইনকে অতিক্রম করে। তাছাড়া সবুজ লাইন কাইস ডো সোডরে থেকে তেলহেরেস পর্যন্ত চলাচল করে এবং মাঝখানে বাইশা সিয়াদোতে নীল লাইন আলামেদাতে লাল লাইন এবং কাম্পো গ্রান্দেতে হলুদ লাইনকে অতিক্রম করে।

jagonews24

লিসবন ভিভা কার্ড যা একটি স্থায়ী কার্ড এবং এটি শুধুমাত্র এর অধিকারীরা ব্যবহার করতে পারে। এটি প্লাস্টিকের এক ধরনের কার্ড যা সাধারণ টিকিট কাউন্টার বা অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিন থেকে নেওয়া যায় না।

এই কার্ডে একটি চিপ এবং গ্রাহককে ছবি সংযুক্ত থাকে তাই নির্দিষ্ট কিছু স্টেশন বা কাউন্টারে তার জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময় ছবি পাসপোর্ট এবং টিন নম্বর অপরিহার্য।

বিশেষ করে কাম্পো গ্রান্দে বা মারকেস পম্ভলে এক্সপ্রেস সেবার মাধ্যমে ১২ ইউরো খরচে পরের দিনই এই নির্দিষ্ট কার্ড পাওয়া যায় অথবা সাধারণ নিয়মে ৭-১০ কর্ম দিবসে মাত্র ৭ ইউরো খরচে এই সার্ভিস পাওয়া যায়।

মাসিক ভিত্তিতে মেট্রো ব্যবহারের জন্য দুইটি আলাদা অফার রয়েছে। প্রথমটি শুধুমাত্র লিসবন মিউনিসিপ্যাল যা ৩০ ইউরো খরচ পড়ে এবং দ্বিতীয়টি মেট্রোপলিটন যা ৪০ ইউরো খরচ পড়ে।

খুব সহজেই টিকিট কাউন্টার অথবা অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিন থেকে নগদ অর্থ, কয়েন বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জ করা যায়। মোটামুটি সব স্টেশনের কাউন্টারে ইংরেজি জানা সার্ভিস অফিসার থাকে এবং সহজের যে কোনো বিষয়ে সহযোগিতা পাওয়া যায়।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]